২১/৩৬. অধ্যায়ঃ
গর্ভবতী নারী মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে
গর্ভবতী নারী ও শাস্তি: সন্তানের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৬৯৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৬৯৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنِ ابْنِ أَنْعُمٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَىٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ، وَأَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ وَعُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ وَشَدَّادُ بْنُ أَوْسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمَرْأَةُ إِذَا قَتَلَتْ عَمْدًا لاَ تُقْتَلُ حَتَّى تَضَعَ مَا فِي بَطْنِهَا إِنْ كَانَتْ حَامِلاً وَحَتَّى تُكَفِّلَ وَلَدَهَا وَإِنْ زَنَتْ لَمْ تُرْجَمْ حَتَّى تَضَعَ مَا فِي بَطْنِهَا وَحَتَّى تُكَفِّلَ وَلَدَهَا " .
মুআয বিন জাবাল, আবূ উবায়দা ইবনুল জাররাহ, উবাদা ইবনুস সামিত ও শাদ্দাদ বিন আওস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কোন নারী ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার অপরাধ করলে অথবা যেনা করলে এবং গর্ভবতী হয়ে থাকলে, সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত এবং তার বাচ্চার লালন-পালন (দুধপানের মেয়াদ) শেষ না করা পর্যন্ত তাকে হত্যা বা রজম করা যাবে না।
[২৬৯৪] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়া ২২২৫, যইফ আল-জামি' ৫৯২৪। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আবু সালিহ সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান বলেন, তিনি সত্যবাদী। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ইমাম যাহাবী বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৩৩৬, ১৫/৯৮ নং পৃষ্ঠা) ২. ইবনু লাহীআহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তা দুর্বল। আবু কাসিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ার পর হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। বিশর ইবনুস সারী বলেন, যদি তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হত তবে আমি তার থেকে কোন হাদিস গ্রহন করতাম না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫১৩, ১৫/৪৮৭ নং পৃষ্ঠা) ৩. (আবদুর রহমান বিন যিয়াদ) ইবনু আনউম আল-ইফরিকী সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন বর্জনীয়। ইবনু মাহদী বলেন, তার থেকে হাদিস বর্ণনা করা উচিত নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, আমি তার থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করিনি। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৯৪৮, ৫/৭০ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কোনো নারী ইচ্ছাকৃত হত্যার অপরাধ করলে এবং সে গর্ভবতী হলে, সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত এবং তার শিশুর লালন-পালন বা দুধপানের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হত্যা করা যাবে না। একইভাবে, যদি সে যেনা করে এবং গর্ভবতী হয়, তাহলে সন্তান জন্ম ও লালন-পালন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে রজম করা যাবে না। হাদিসটি অপরাধের শাস্তি নিয়ে হলেও এর ভেতরে শিশুর নিরাপত্তা ও মায়ের গর্ভের সন্তানের অধিকার স্পষ্ট। অপরাধীর শাস্তি থাকলেও নিরপরাধ শিশুকে ক্ষতির মুখে ফেলা যাবে না। তাই এই হাদিসে ন্যায়, দয়া, সন্তান রক্ষা এবং শাস্তি কার্যকরে সতর্কতার শিক্ষা রয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গর্ভস্থ শিশুর নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- অপরাধীর শাস্তির ক্ষেত্রেও নিরপরাধ সন্তানের ক্ষতি করা যাবে না।
- শাস্তি কার্যকরে তাড়াহুড়া নয়, সতর্কতা দরকার।
- মায়ের মাধ্যমে শিশুর দুধপান ও লালন-পালনের অধিকার রক্ষা করা হয়েছে।
