২১/৩৫. অধ্যায়ঃ
কিসাস ক্ষমা করা
আঘাত ক্ষমা করার ফজিলত: মর্যাদা বৃদ্ধি ও গুনাহ মাফ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৬৯৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৬৯৩
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ يُونُسَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي السَّفَرِ، قَالَ قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ رَجُلٍ يُصَابُ بِشَىْءٍ مِنْ جَسَدِهِ فَيَتَصَدَّقُ بِهِ إِلاَّ رَفَعَهُ اللَّهُ بِهِ دَرَجَةً أَوْ حَطَّ عَنْهُ بِهِ خَطِيئَةً " . سَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ وَوَعَاهُ قَلْبِي .
আবূ দারদা’ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: যার দেহের কোন স্থান আঘাতপ্রাপ্ত হলো, অতঃপর সে তা সদকা করে দিলো (অপরাধীকে ক্ষমা করে দিলো) আল্লাহ এর বিনিময়ে তার এক ধাপ মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন অথবা তার একটি গুনাহ মাফ করবেন। এ কথা আমার দুই কান শুনেছে এবং আমার অন্তর তা হেফাজত করেছে।
[২৬৯৩] তিরমিযী ১৩৯৩, যইফাহ ৪৪৮২, যইফ আল-জামি ৫১৭৫। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী ইউনুস বিন আবু ইসহাক সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি তার রেওয়ায়াতে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম বিন হিব্বান তার সিকাহ গ্রন্থে তার নাম উল্লেখ করেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কিছু সন্দেহ করেন। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭১৭০, ৩২/৪৮৮ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ দারদা (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে বলতে শুনেছেন, যার দেহের কোনো অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তারপর সে সেটিকে সদকা করে দেয়—অর্থাৎ অপরাধীকে ক্ষমা করে—আল্লাহ এর বিনিময়ে তার এক ধাপ মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন অথবা একটি গুনাহ মাফ করবেন। বর্ণনাকারী জোর দিয়ে বলেন, তার দুই কান তা শুনেছে এবং অন্তর তা সংরক্ষণ করেছে। এখানে “সদকা” শব্দটি অর্থের দান নয়; আঘাতের বদলা না নিয়ে ক্ষমা করার অর্থে এসেছে। হাদিসটি শেখায়, ক্ষমা শুধু সামাজিক ভদ্রতা নয়; এটি আল্লাহর কাছে মর্যাদার কারণ হতে পারে। তবে ক্ষমা করার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির। তাই হাদিসটি আঘাত, কিসাস, ক্ষমা এবং মাফ করার ফজিলত নিয়ে গভীর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আঘাতের বদলা ক্ষমা করা আল্লাহর কাছে মর্যাদার কারণ হতে পারে।
- ক্ষমা করা গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে।
- ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষমা করার অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- ক্ষমা মানুষের মনকে নরম ও সম্পর্ককে শান্ত করতে পারে।
