২১/২৩. অধ্যায়ঃ
স্বাধীন ব্যক্তিকে ক্রীতদাস হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যাবে কি?
ক্রীতদাসকে ইচ্ছাকৃত হত্যা: শাস্তি ও সতর্ক শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৬৬৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৬৬৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ الطَّبَّاعِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ، وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَتَلَ رَجُلٌ عَبْدَهُ عَمْدًا مُتَعَمِّدًا فَجَلَدَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِائَةً وَنَفَاهُ سَنَةً وَمَحَا سَهْمَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ " .
আবদুলাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ) এবং ‘আমর বিন শুআইব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি তার ক্রীতদাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে একশত বেত্রাঘাত করেন, এক বছরের নির্বাসন দেন এবং মুসলিমদের প্রাপ্য অংশের মধ্য থেকে তার অংশ বিলোপ করেন।
[২৬৬৪] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী ফিস সুনান ৫/৪৩। তাহকীক আলবানীঃ খুবই দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবী ১. ইসমাঈল বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আহলে শাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী, ইবনু আবু শায়বাহ, আমর ইবনুল ফাল্লাস ও দুহায়ম বলেন, শাম শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি সিকাহ কিন্তু অন্য শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭২, ৩/১৬৩ নং পৃষ্ঠা) ২. ইসহাক বিন আবদুল্লাহ বিন আবু ফারওয়াহ সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তার সানাদ বা মাতান কোনটিরই কেউ অনুসরণ করেনি। আবু বাকর আল-বুরকানী ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি মাতরুক বা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু বাকর আল-বাযযার বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু ইয়ালা আল-খালীলী বলেন, তিনি খুবই দুর্বল। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬৭, ২/৪৪৬ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, এক ব্যক্তি তার ক্রীতদাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করেছিল। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে একশত বেত্রাঘাত করেন, এক বছরের নির্বাসন দেন এবং মুসলিমদের প্রাপ্য অংশের মধ্য থেকে তার অংশ বিলোপ করেন। এখানে ‘ক্রীতদাস হত্যা’ বিষয়ে সরাসরি একটি ঘটনার কথা এসেছে। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, অধীনস্থ মানুষকে হত্যা করার অপরাধ এড়িয়ে যাওয়ার মতো বিষয় নয়। এতে শাস্তি, নির্বাসন এবং সামাজিক/অর্থনৈতিক অংশ বাতিলের কথা এসেছে। ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এটুকুই বলা নিরাপদ যে, প্রদত্ত পাঠে অপরাধীর ওপর কয়েক ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা মানুষকে সতর্ক করে যে, ক্ষমতার অবস্থানে থেকেও অন্যায় করলে জবাবদিহি আছে। দুর্বল মানুষের প্রাণের অধিকার অবহেলা করা যায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইচ্ছাকৃত হত্যা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
- ক্রীতদাসের ওপর জুলুমের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এসেছে।
- ক্ষমতার অপব্যবহার করলে জবাবদিহি হতে পারে।
- শাস্তির ধরন হাদিসের পাঠ অনুযায়ী সীমিতভাবে বুঝতে হবে।
