২১/৪. অধ্যায়ঃ
যাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয়েছে তার ওয়ারিসগন দিয়াত গ্রহণে সম্মত হলে
ইচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াত: কিসাস, ক্ষতিপূরণ ও সুলহ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৬২৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৬২৬
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَتَلَ عَمْدًا دُفِعَ إِلَى أَوْلِيَاءِ الْقَتِيلِ فَإِنْ شَاءُوا قَتَلُوا وَإِنْ شَاءُوا أَخَذُوا الدِّيَةَ وَذَلِكَ ثَلاَثُونَ حِقَّةً وَثَلاَثُونَ جَذَعَةً وَأَرْبَعُونَ خَلِفَةً وَذَلِكَ عَقْلُ الْعَمْدِ مَا صُولِحُوا عَلَيْهِ فَهُوَ لَهُمْ وَذَلِكَ تَشْدِيدُ الْعَقْلِ " .
আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি (কাউকে) ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করলে তাকে নিহত ব্যক্তির অভিভাবকদের নিকট সোপর্দ করা হবে। তারা ইচ্ছা করলে তাকে হত্যা করবে অথবা ইচ্ছা করলে দিয়াত গ্রহণ করবে। আর দিয়াত হলো তিরিশটি হিক্কা (চার বছরের উট), তিরিশটি জাযাআ (পাঁচ বছরের উট), এবং চল্লিশটি খালিফা (গর্ভধাত্রী উষ্ট্রী)। এটাই হলো ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার দিয়াত। উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা (সুলহ)ও হতে পারে। আর এটা হলো কঠোর দিয়াত।
তিরমিযী ১৩৮৭, ইরওয়া ২১৯৯। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন রাশিদ সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তার বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তার হাদিস হাসান। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন, তার কাদারিয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শীয়া মতাবলম্বী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫২০৮, ২৫/১৮৬ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ইচ্ছাকৃত হত্যার বিষয়ে বলেন, হত্যাকারীকে নিহত ব্যক্তির অভিভাবকদের কাছে সোপর্দ করা হবে। তারা চাইলে কিসাস চাইতে পারে, আর চাইলে দিয়াত গ্রহণ করতে পারে। হাদিসে ইচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াত হিসেবে তিরিশটি হিক্কা, তিরিশটি জাযাআ এবং চল্লিশটি খালিফা উটের কথা এসেছে। আরও বলা হয়েছে, উভয় পক্ষের মধ্যে সুলহ বা সমঝোতা হতে পারে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, নিহত ব্যক্তির পক্ষের অধিকার গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সমঝোতার দরজাও বন্ধ নয়। এই হাদিস কিসাস, দিয়াত ও সুলহ—তিনটি বিষয়কে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বুঝতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইচ্ছাকৃত হত্যায় নিহত ব্যক্তির অভিভাবকদের অধিকার রয়েছে।
- কিসাসের পাশাপাশি দিয়াত গ্রহণের পথও রাখা হয়েছে।
- হাদিসে ইচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াতের ধরন নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে।
- উভয় পক্ষের সম্মতিতে সুলহ হতে পারে।
