২১/৩. অধ্যায়ঃ

নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসগণের তিনটি বিকল্প ব্যবস্থার যে কোন একটি গ্রহণ করার এখতিয়ার থাকবে।

কিসাস, ক্ষমা ও দিয়াত: সীমার মধ্যে ন্যায়বিচার

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৬২৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، وَأَبُو بَكْرٍ ابْنَا أَبِي شَيْبَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، وَعَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، جَمِيعًا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ فُضَيْلٍ، أَظُنُّهُ عَنِ ابْنِ أَبِي الْعَوْجَاءِ، وَاسْمُهُ، سُفْيَانُ عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ أُصِيبَ بِدَمٍ أَوْ خَبْلٍ - وَالْخَبْلُ الْجُرْحُ - فَهُوَ بِالْخِيَارِ بَيْنَ إِحْدَى ثَلاَثٍ فَإِنْ أَرَادَ الرَّابِعَةَ فَخُذُوا عَلَى يَدَيْهِ أَنْ يَقْتُلَ أَوْ يَعْفُوَ أَوْ يَأْخُذَ الدِّيَةَ فَمَنْ فَعَلَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَعَادَ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا ‏"‏ ‏.‏

আবূ শুরায়হ আল-খুযাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যার কেউ নিহত হয় অথবা যাকে আহত করা হয় তার তিনটি বিকল্প বিষয়ের যেকোন একটি গ্রহণ করার এখতিয়ার আছে। সে চতুর্থটি গ্রহণ করতে চাইলে তোমরা তার উভয় হাত ধরে রাখো (তাকে বাধা দাও)। সে হত্যাকারীকে হয় হত্যা করবে অথবা ক্ষমা করবে অথবা দিয়াত (আর্থিক ক্ষতিপূরণ) গ্রহণ করবে। যে ব্যক্তি এই (তিনটি বিকল্পের) যেকোন একটি গ্রহণ করার পর আরও কিছু (অতিরিক্ত) দাবি করবে তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে সে স্থায়ী হবে।

আবূ দাউদ ৪৪৯৬, আহমাদ ১৫৯৪০, দারেমী ২৩৫১, ইরওয়া ৭/২৭৮। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আবু খালিদ আল আহমার সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনু আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সালেহ কিন্তু হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ ও ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৫০৪, ১১/৩৯৪ নং পৃষ্ঠা) ২. মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সালিহ। সুলায়মান বিন তারখান ও সুলায়মান বিন মিহরান বলেন, তিনি মিথ্যুক। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা) ৩. (সুফইয়ান) ইবনু আবুল আওজা সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তার হাদিস নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় প্রসিদ্ধ নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম বাখারী বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৪১২, ১১/১৭৬ নং পৃষ্ঠা)

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬২৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিহত বা আহত ব্যক্তির পক্ষের অধিকার সম্পর্কে তিনটি পথ বলেছেন। তারা চাইলে হত্যাকারীর উপর কিসাস চাইতে পারে, চাইলে ক্ষমা করতে পারে, আবার চাইলে দিয়াত বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করতে পারে। হাদিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই তিনটির বাইরে অতিরিক্ত দাবি করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। যে ব্যক্তি একটি পথ গ্রহণ করার পর আবার বাড়তি দাবি করবে, তার ব্যাপারে কঠিন সতর্কতা এসেছে। তাই কিসাস, ক্ষমা ও দিয়াত—এসব বিষয় রাগ বা প্রতিশোধের আবেগে নয়, বরং নির্ধারিত সীমার মধ্যে হতে হবে। এই হাদিস ন্যায়বিচার, সংযম এবং অধিকার আদায়ের সঠিক সীমা শেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নিহত বা আহত ব্যক্তির পক্ষের জন্য কিসাস, ক্ষমা বা দিয়াতের পথ রয়েছে।
  • একটি পথ গ্রহণ করার পর অতিরিক্ত দাবি করা থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
  • অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রেও সীমা মানা জরুরি।
  • ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের পথও ন্যায়বিচারের অংশ হতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন