২০/১০. অধ্যায়ঃ
ইহূদী পুরুষ ও নারীকে রজম করা
রজমের বিধান গোপন ও সম্ভ্রান্ত-দুর্বলের পক্ষপাত
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৫৫৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৫৫৮
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ بِيَهُودِيٍّ مُحَمَّمٍ مَجْلُودٍ فَدَعَاهُمْ فَقَالَ " هَكَذَا تَجِدُونَ فِي كِتَابِكُمْ حَدَّ الزَّانِي " . قَالُوا نَعَمْ . فَدَعَا رَجُلاً مِنْ عُلَمَائِهِمْ فَقَالَ " أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى أَهَكَذَا تَجِدُونَ حَدَّ الزَّانِي قَالَ لاَ وَلَوْلاَ أَنَّكَ نَشَدْتَنِي لَمْ أُخْبِرْكَ نَجِدُ حَدَّ الزَّانِي فِي كِتَابِنَا الرَّجْمَ وَلَكِنَّهُ كَثُرَ فِي أَشْرَافِنَا فَكُنَّا إِذَا أَخَذْنَا الشَّرِيفَ تَرَكْنَاهُ وَكُنَّا إِذَا أَخَذْنَا الضَّعِيفَ أَقَمْنَا عَلَيْهِ الْحَدَّ . فَقُلْنَا تَعَالَوْا فَلْنَجْتَمِعْ عَلَى شَىْءٍ نُقِيمُهُ عَلَى الشَّرِيفِ وَالْوَضِيعِ فَاجْتَمَعْنَا عَلَى التَّحْمِيمِ وَالْجَلْدِ مَكَانَ الرَّجْمِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم اللَّهُمَّ إِنِّي أَوَّلُ مَنْ أَحْيَا أَمْرَكَ إِذْ أَمَاتُوهُ " . وَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ .
বারা’ বিন আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এমন এক ইহুদীকে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, যার মুখে কালি মাখিয়ে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল। তিনি তাদেরকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কি তোমাদের কিতাবে যেনাকারীর এরূপ শাস্তি পেয়েছ? তারা বললো, হ্যাঁ।তিনি তাদের আলেমদের মধ্যকার একজনকে ডেকে বলেনঃ আমি তোমাকে সেই সত্তার শপথ দিয়ে বলছি যিনি মূসা (আঃ)-এর উপর তাওরাত কিতাব নাযিল করেছেন! তোমরা কি যিনাকারীর এরূপ শাস্তিই পেয়েছ? সে বললো, না। আপনি যদি আমাকে শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস না করতেন তবে আমি আপনাকে এ কথা বলতাম না।আমরা আমাদের কিতাবে যেনাকারীর শাস্তি পেয়েছি রজম করা। কিন্তু আমাদের সম্ভ্রান্ত লোকদের মধ্যে রজমের (যেনার) অপরাধ বেড়ে গেল। এমতাবস্থায় আমরা সম্ভ্রান্ত লোককে (এ অপরাধে) গ্রেপ্তার করলে তাকে ছেড়ে দিতাম এবং আমাদের দুর্বল ও অসহায় লোককে (একইরূপ অপরাধে) গ্রেপ্তার করলে তার উপর হদ্দ কার্যকর করতাম।(এক পর্যায়ে) আমরা বললাম এসো আমরা একটা বিষয়ে একমত হই, যা আমরা সম্ভ্রান্ত ও দুর্বল সকলের উপর কার্যকর করতে পারি। তখন থেকে আমরা (শাস্তি লাঘব করে) রজমের পরিবর্তে মুখমণ্ডলে কালি মেখে বেত্রাঘাতের শাস্তি কার্যকর করতে একমত হই।নবী (ﷺ) বলেনঃ হে আল্লাহ! আমিই প্রথম ব্যক্তি যে তাদের ধ্বংস করা তোমার হুকুমকে জীবিত করেছে। অতঃপর তাঁর নির্দেশে ঐ ইহুদীকে রজম করা হয়।
[২৫৫৮] ইবনু মাজাহ ২৩২৭, মুসলিম ১৭০০, আবূ দাউদ ৪৪৪৭, ৪৪৪৮, আহমাদ ১৭০৫৪, ইরওয়া ২৬৯৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৫৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) এমন এক ইহুদির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যার মুখে কালি মাখানো হয়েছিল এবং তাকে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তারা কি তাদের কিতাবে যেনাকারীর শাস্তি এমনই পেয়েছে। প্রথমে তারা হ্যাঁ বলে। পরে তাদের এক আলেমকে শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, তাদের কিতাবে রজমের বিধান ছিল। কিন্তু সম্ভ্রান্তদের মধ্যে অপরাধ বাড়লে তারা সম্ভ্রান্তদের ছেড়ে দিত এবং দুর্বলদের ওপর হদ্দ কার্যকর করত। পরে তারা রজমের বদলে কালি মাখানো ও বেত্রাঘাতে একমত হয়। নবী (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর হুকুমকে জীবিত করার কথা বলেন এবং রজমের নির্দেশ দেন। হাদিসটি পক্ষপাত, বিধান গোপন ও বিচার বিকৃত করার বিরুদ্ধে শক্ত শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর বিধান গোপন বা বদলে দেওয়া গুরুতর বিষয়।
- সম্ভ্রান্ত ও দুর্বলদের জন্য আলাদা বিচার পক্ষপাতের লক্ষণ।
- সত্য জানার জন্য নবী (صلى الله عليه وسلم) আলেমকে শপথ দিয়ে প্রশ্ন করেন।
- হাদিসে আল্লাহর হুকুমকে জীবিত করার কথা এসেছে।
