২০/৯. অধ্যায়ঃ
রজম করা
যেনার স্বীকারোক্তি, রজম এবং জানাজা পড়ার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৫৫৫
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৫৫৫
حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عُثْمَانَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَاجِرِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ، أَنَّ امْرَأَةً، أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَاعْتَرَفَتْ بِالزِّنَا فَأَمَرَ بِهَا فَشُكَّتْ عَلَيْهَا ثِيَابُهَا ثُمَّ رَجَمَهَا ثُمَّ صَلَّى عَلَيْهَا .
ইমরান ইবনুল হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক নারী নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে যেনার স্বীকারোক্তি করল। তিনি তার দেহে তার পরিধেয় বস্ত্র শক্ত করে পেঁচিয়ে তাকে রজম করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি তার জানাজা নামাজ পড়লেন।
[২৫৫৫] মুসলিম ১৬৯৬, তিরমিযী ১৪৩৫, নাসায়ী ১৯৫৭, আবূ দাউদ ৪৪৪০, আহমাদ ১৯৩৬০, ১৯৪০২, ১৯৪০২, ১৯৪২৪, ১৯৪৫২, দারেমী ২৩২৫, ইরওয়া ২৩৩৩। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আব্বাস বিন উসমান আদ-দিমাশকী সম্পর্কে আবুল হাসান বিন সুমায় বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি কখনো কখনো সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সিকাহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩১৩২, ১৪/২৩৩ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৫৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক নারীর ঘটনা এসেছে, যিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে যেনার স্বীকারোক্তি করেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তার পরিধেয় বস্ত্র শক্ত করে পেঁচিয়ে দিতে বলেন এবং তাকে রজম করার নির্দেশ দেন। এরপর তিনি তার জানাজা নামাজ পড়েন। হাদিসটির মূল বিষয় হলো স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বিচারিক শাস্তি এবং শাস্তি কার্যকরের পরও মুসলিম হিসেবে জানাজার বিষয়। এখানে নারীর পোশাক শক্ত করে পেঁচিয়ে দেওয়ার উল্লেখ আছে, যা শাস্তির সময় শালীনতা রক্ষার দিক বুঝায়। হাদিসের ভাষা থেকে দেখা যায়, শাস্তি কার্যকর হলেও তার জানাজা পড়া হয়েছে। তাই এতে বিচার, শালীনতা ও মুসলিম মর্যাদার বিষয় একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বিচারিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনা এসেছে।
- শাস্তির সময় শালীনতা রক্ষার দিক বর্ণনায় আছে।
- রজমের পর নবী (صلى الله عليه وسلم) তার জানাজা পড়েছেন।
- শাস্তি কার্যকর হলেও মুসলিমের মর্যাদার বিষয় বিবেচিত হয়েছে।
