২০/৭. অধ্যায়ঃ

যেনার হদ্দ

যেনার মামলায় আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী বিচার

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৫৪৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ، وَشِبْلٍ، قَالُوا كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ أَنْشُدُكَ اللَّهَ إِلاَّ قَضَيْتَ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ ‏.‏ فَقَالَ خَصْمُهُ وَكَانَ أَفْقَهَ مِنْهُ اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ وَائْذَنْ لِي حَتَّى أَقُولَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ قُلْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا وَإِنَّهُ زَنَى بِامْرَأَتِهِ فَافْتَدَيْتُ مِنْهُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَخَادِمٍ فَسَأَلْتُ رَجُلاً مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فَأُخْبِرْتُ أَنَّ عَلَى ابْنِي جَلْدَ مِائَةٍ وَتَغْرِيبَ عَامٍ وَأَنَّ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا الرَّجْمَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ الْمِائَةُ الشَّاةُ وَالْخَادِمُ رَدٌّ عَلَيْكَ وَعَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ وَاغْدُ يَا أُنَيْسُ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا فَإِنِ اعْتَرَفَتْ فَارْجُمْهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ هِشَامٌ فَغَدَا عَلَيْهَا فَاعْتَرَفَتْ فَرَجَمَهَا ‏.‏

আবদুল্লাহ শিবলি (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, “আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ করে বলেছি যে, আমাদের মধ্যে কিতাবুল্লাহর বিধান অনুযায়ী মীমাংসা করে দিন।” তার তুলনায় অধিক বিচক্ষণ তার প্রতিপক্ষ বলল, “হ্যাঁ, আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফয়সালা করে দিন এবং আমাকে বক্তব্য পেশের অনুমতি দিন।” তিনি বললেনঃ “বল।”লোকটি বলল, “আমার পুত্র এই ব্যক্তির শ্রমিক ছিল, সে তার স্ত্রীর সাথে যেনা করেছে। আমি তার পক্ষ থেকে এক শত বকরী এবং একটি দাস পরিশোধ করেছি। অতঃপর আমি কতক বিজ্ঞ লোককে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে আমাকে বলা হয় যে, আমার পুত্রকে এক শত বেত্রাঘাত করতে হবে এবং এক বছরের নির্বাসন দিতে হবে, আর এই ব্যক্তির স্ত্রীকে রজম (প্রস্তরাঘাতে হত্যা) করতে হবে।”রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ “সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি অবশ্যই তোমাদের দু’জনের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করব। তুমি তোমার এক শত বকরী ও দাস ফেরত নাও এবং তোমার পুত্রকে এক বছরের নির্বাসনসহ এক শত বেত্রাঘাত করা হবে। আর হে উনাইস! তুমি আগামীকাল সকালে তার স্ত্রীর নিকট যাবে। সে যদি স্বীকারোক্তি করে তবে তাকে রজম করবে।”অধস্তন রাবী হিশাম বলেন, “উনাইস (রাঃ) পরদিন সকালে তার নিকট গেল এবং সে স্বীকারোক্তি করলে তিনি তাকে রজম করেন।”

[২৫৪৯] সহীহুল বুখারী ২৩১৫, ২৬৪৯, ২৬৯৬, ২৭২৫, ৬৬৩৩, ৬৮২৮, ৬৮৩২, ৬৮৩৩, ৬৮৩৬, ৬৮৪৩, ৬৮৬০, ৭১৯৫, ৭২৬০, ৭২৭৯, মুসলিম ১৬৭৯, তিরমিযী ১৪৩৩,নাসায়ী ৫৪১০, ৫৪১১, আবূ দাউদ ৪৪৪৫, আহমাদ ১৬৫৯০, মুয়াত্তা মালেক ১৫৫৬, দারেমী ২৩১৭, ইরওয়া ১৪৬৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৫৪৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে দুই ব্যক্তির মধ্যে একটি যেনার মামলা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে আসে। এক ব্যক্তির ছেলে অন্য ব্যক্তির শ্রমিক ছিল এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে যেনা করেছিল। পিতা একশত বকরী ও একটি দাস দিয়ে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে জ্ঞানীদের থেকে জানতে পারেন, ছেলের শাস্তি একশত বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন, আর বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে রজম। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করবেন। তিনি বকরী ও দাস ফেরত দিতে বলেন, ছেলের জন্য বেত্রাঘাত ও নির্বাসনের নির্দেশ দেন এবং নারীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রজমের নির্দেশ দেন। হাদিসটি দেখায়, বিচার প্রমাণ, স্বীকারোক্তি ও আল্লাহর বিধানের ওপর দাঁড়ায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বিচারে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করা জরুরি।
  • অন্যায়ভাবে দেওয়া ফিদয়া ফেরত দেওয়া হয়েছে।
  • অবিবাহিত অপরাধীর জন্য বেত্রাঘাত ও নির্বাসনের কথা এসেছে।
  • স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বিচারিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনা এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন