২০/৬. অধ্যায়ঃ
হদ্দের ব্যাপারে সুপারিশ
চুরির ঘটনায় হদ্দ ও সুপারিশ পরিহারের শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৫৪৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৫৪৮
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ بْنِ رُكَانَةَ، عَنْ أُمِّهِ، عَائِشَةَ بِنْتِ مَسْعُودِ بْنِ الأَسْوَدِ عَنْ أَبِيهَا، قَالَ لَمَّا سَرَقَتِ الْمَرْأَةُ تِلْكَ الْقَطِيفَةَ مِنْ بَيْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْظَمْنَا ذَلِكَ وَكَانَتِ امْرَأَةً مِنْ قُرَيْشٍ فَجِئْنَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نُكَلِّمُهُ وَقُلْنَا نَحْنُ نَفْدِيهَا بِأَرْبَعِينَ أُوقِيَّةً . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تُطَهَّرَ خَيْرٌ لَهَا " . فَلَمَّا سَمِعْنَا لِينَ قَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَيْنَا أُسَامَةَ فَقُلْنَا كَلِّمْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَلَمَّا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَلِكَ قَامَ خَطِيبًا فَقَالَ " مَا إِكْثَارُكُمْ عَلَىَّ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَقَعَ عَلَى أَمَةٍ مِنْ إِمَاءِ اللَّهِ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ كَانَتْ فَاطِمَةُ ابْنَةُ رَسُولِ اللَّهِ نَزَلَتْ بِالَّذِي نَزَلَتْ بِهِ لَقَطَعَ مُحَمَّدٌ يَدَهَا " .
মাসঊদ ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সেই নারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঘর থেকে সেই চাদরটি চুরি করলে তা আমাদেরকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে। সে ছিল কুরায়শ বংশীয়া।অতঃপর আমরা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করতে এলাম। আমরা বললাম, আমরা তার পক্ষ থেকে চল্লিশ উকিয়া ফিদয়া দিচ্ছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সে পবিত্র হোক, এটাই তার জন্য উত্তম।আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নরম সুর শুনে উসামার কাছে এসে বললাম, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে আলোচনা করো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পরিস্থিতি আঁচ করে খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে গেলেন।তিনি বলেনঃ তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা আমার কাছে আল্লাহ নির্ধারিত হদ্দের ব্যাপারে সুপারিশ করছো, যা তাঁর কোন এক বান্দীর উপর প্রযোজ্য হচ্ছে। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি আল্লাহর রাসূলের কন্যা ফাতিমা ও ঐ নারীর স্তরে উপনীত হতো, তবে অবশ্যই মুহাম্মাদ তার হাত কেটে দিত।
[২৫৪৮] আহমাদ ২৬২৫২, বায়হাকী ফিস সুনান ৮/২৪৬, যইফাহ ৪৪২৫। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সালিহ। সুলায়মান বিন তারখান ও সুলায়মান বিন মিহরান বলেন, তিনি মিথ্যুক। তিনি মুদাল্লিস রাবী তার আন আন সুত্রে হাদিস বর্ণনার কারণে হাদিসটি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৫৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক কুরায়শী নারীর চাদর চুরির ঘটনা এসেছে। ঘটনা সাহাবীদের জন্য বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়। তারা ফিদয়া দেওয়ার কথা বলেন এবং পরে উসামা (রাঃ)-এর মাধ্যমে কথা বলার চেষ্টা করেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তার পবিত্র হওয়া তার জন্য উত্তম। পরে তিনি খুতবায় দাঁড়িয়ে বলেন, আল্লাহর নির্ধারিত হদ্দের ব্যাপারে কেন এত সুপারিশ করা হচ্ছে? তিনি শপথ করে বলেন, যদি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কন্যা ফাতিমা এমন অবস্থায় পড়তেন, তবে তাঁর ক্ষেত্রেও একই বিচার হতো। এই হাদিসে হদ্দ, চুরির শাস্তি, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক মর্যাদার প্রভাবমুক্ত বিচার স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হদ্দের বিষয়ে ফিদয়া বা সুপারিশ দিয়ে বিচার বদলানো উচিত নয়।
- অপরাধীর মর্যাদা বিচারকে প্রভাবিত করবে না।
- শাস্তিকে হাদিসে পবিত্রতার একটি দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- ন্যায়বিচারে প্রিয়জন বা সম্মানিত ব্যক্তির জন্য আলাদা ছাড় নেই।
