১৭/৪. অধ্যায়ঃ
শুফআর দাবি উত্থাপন।
শুফআর দাবি কখন থাকে না: শরীক, নাবালেগ ও অনুপস্থিত ব্যক্তির প্রসঙ্গ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৫০১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৫০১
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْبَيْلَمَانِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ شُفْعَةَ لِشَرِيكٍ عَلَى شَرِيكٍ إِذَا سَبَقَهُ بِالشِّرَاءِ وَلاَ لِصَغِيرٍ وَلاَ لِغَائِبٍ "
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন শরীক অপর শরীকের আগে ক্রয় করলে সেই ক্ষেত্রে শুফআর দাবি করা যাবে না এবং নাবালেগ ও অনুপস্থিত ব্যক্তির অনুকূলে শুফআর দাবি বর্তায় না।
[২৫০১] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। যইফাহ ৪৮০৩। তাহকীক আলবানীঃ খুবই দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ ইবনুল হারিস সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু হাতিম বিন হিব্বান তার সিকাহ গ্রন্থে তার নাম উল্লেখ করেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী তার হাদিস বর্জন করেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম তিরমিযি বলেন, তিনি মুনকার। ইমাম যাহাবী তাকে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫১৩০, ২৫/৩০ নং পৃষ্ঠা) ২. মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান আল-বায়লামানী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল, তিনি হাদিস বর্ণনায় ইদতিরাব করেন। আবু নুআয়ম আল-আসবাহানী ও আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি মুনকার। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৩৯২, ২৫/৫৯৪ নং পৃষ্ঠা) ৩. আবদুর রহমান আল-বায়লামানী সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি দুর্বল, তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৭৭৪, ১৭/৮ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৫০১-এর সারসংক্ষেপ
কোর বিষয়: শুফআ। এই হাদিসে শুফআর দাবি সম্পর্কে নির্দিষ্ট সীমা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কোনো শরীক যদি অপর শরীকের আগে ক্রয় করে ফেলে, তাহলে সেই ক্ষেত্রে শুফআর দাবি করা যাবে না। একই সঙ্গে নাবালেগ এবং অনুপস্থিত ব্যক্তির অনুকূলে শুফআর দাবি বর্তায় না—এ কথাও এখানে এসেছে। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, শুফআ শুধু একটি সাধারণ দাবি নয়; তার কিছু সীমা আছে। যিনি আগে ক্রয় করেছেন এবং যাদের বিষয়ে দাবি প্রযোজ্য নয়, তাদের কথা আলাদা করে বলা হয়েছে। হাদিসটির আলোচনায় শরীক, ক্রয়, শুফআ দাবি, নাবালেগ ও অনুপস্থিত ব্যক্তি—এসব শব্দ স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। এর বাইরে নতুন কোনো শর্ত যোগ করা এই বর্ণনার উদ্দেশ্য নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শুফআর অধিকার নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে।
- শরীক আগে ক্রয় করলে শুফআর দাবি থাকে না বলে হাদিসে বলা হয়েছে।
- নাবালেগ ও অনুপস্থিত ব্যক্তির বিষয়ে আলাদা বিধান উল্লেখ হয়েছে।
- সম্পত্তি-সংক্রান্ত দাবিতে সময় ও অবস্থার গুরুত্ব বোঝা যায়।
