১৬/২. অধ্যায়ঃ
বন্ধকী জন্তুতে আরোহণ এবং তার দুধ পান করা
বন্ধকী পশুর ব্যবহার: খরচ ও যত্নের দায়িত্ব কার?
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৪৪০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৪৪০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ زَكَرِيَّا، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الظَّهْرُ يُرْكَبُ إِذَا كَانَ مَرْهُونًا وَلَبَنُ الدَّرِّ يُشْرَبُ إِذَا كَانَ مَرْهُونًا وَعَلَى الَّذِي يَرْكَبُ وَيَشْرَبُ نَفَقَتُهُ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: বন্ধককৃত পশুতে আরোহন করা যাবে এবং বন্ধকী পশুর দুধও পান করা যাবে। তবে যে ব্যক্তি পশুটিকে বাহনরূপে ব্যবহার করবে বা তার দুধ পান করবে সে-ই তার আহার ও সেবাযত্নের ব্যবস্থা করবে।
[২৪৪০] সহীহুল বুখারী ২৫১১, ২৫১২, তিরমিযী ১২৪৫, আবূ দাউদ ৩৫২৬, আহমাদ ৭০৮৫, ৯৭৬০, ইরওয়া ১৪০৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বন্ধকী পশু সম্পর্কে একটি ন্যায্য নিয়ম বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, বন্ধককৃত পশুতে আরোহন করা যাবে এবং বন্ধকী পশুর দুধ পান করা যাবে। তবে এর সঙ্গে দায়িত্বও আছে। যে ব্যক্তি পশুটিকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করবে বা তার দুধ পান করবে, সে-ই তার খাবার ও সেবাযত্নের ব্যবস্থা করবে। এখানে বন্ধকী পশুর ব্যবহারকে শুধু সুবিধা হিসেবে দেখানো হয়নি; বরং ব্যবহার করলে খরচ বহনের কথাও বলা হয়েছে। তাই বন্ধকী জিনিস, পশুর অধিকার, খরচের দায়িত্ব এবং ন্যায়ভিত্তিক লেনদেন—এসব বিষয় এই হাদিসে পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে। কারও জিনিস থেকে লাভ নিলে তার প্রয়োজনীয় যত্নের কথাও মনে রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বন্ধকী পশু ব্যবহার করলে তার খাবার ও যত্নের দায়িত্বও নিতে হবে।
- অন্যের জিনিস থেকে উপকার নিলে ন্যায্য খরচ বহন করা উচিত।
- লেনদেনে সুবিধা ও দায়িত্ব—দুই দিকই বিবেচনা করতে হয়।
- পশুর প্রতি যত্নশীল আচরণ করা ইসলামী আদবের অংশ।
