১৫/২১. অধ্যায়ঃ
তিন কারণে দেনাদার হলে আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করে দিবেন।
ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মৃত্যু ও তিন ব্যতিক্রম
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৪৩৫
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৪৩৫
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ، وَأَبُو أُسَامَةَ وَجَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنِ ابْنِ أَنْعُمٍ، قَالَ أَبُو كُرَيْبٍ وَحَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ ابْنِ أَنْعُمٍ، عَنِ عِمْرَانَ بْنِ عَبْدٍ الْمَعَافِرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الدَّيْنَ يُقْضَى مِنْ صَاحِبِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذَا مَاتَ إِلاَّ مَنْ يَدَيَّنُ فِي ثَلاَثِ خِلاَلٍ الرَّجُلُ تَضْعُفُ قُوَّتُهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَسْتَدِينُ يَتَقَوَّى بِهِ لِعَدُوِّ اللَّهِ وَعَدُوِّهِ وَرَجُلٌ يَمُوتُ عِنْدَهُ مُسْلِمٌ لاَ يَجِدُ مَا يُكَفِّنُهُ وَيُوَارِيهِ إِلاَّ بِدَيْنٍ وَرَجُلٌ خَافَ اللَّهَ عَلَى نَفْسِهِ الْعُزْبَةَ فَيَنْكِحُ خَشْيَةً عَلَى دِينِهِ فَإِنَّ اللَّهَ يَقْضِي عَنْ هَؤُلاَءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .
আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা গেলে কেয়ামতের দিন তার থেকে ঋণ আদায় করা হবে। কিন্তু তিন কারণে ঋণগ্রস্ত হলে ভিন্ন কথা। (এক) যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে ঋণ করে এবং এর দ্বারা আল্লাহর শত্রু ও নিজের শত্রুর বিরুদ্ধে শক্তি সঞ্চয় করে। (দুই) কোনো ব্যক্তির কাছে কোনো মুসলিম মারা গেলে, তাকে দাফন করার জন্য সে ঋণগ্রস্ত হয়। (তিন) যে অবিবাহিত ব্যক্তি দারিদ্র্যের কারণে আল্লাহর দ্বীন থেকে বিচ্যুতি হওয়ার আশঙ্কায় ঋণ করে বিবাহ করে। আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করবেন।
[২৪৩৫] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। যইফাহ ৫৪৮৩, আত-তালীকুর রাগীব ৩/৩৬। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. রিশদীন বিন সা'দ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল তাকে দুর্বল বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন তার থেকে কোন হাদিস লিপিবদ্ধ করেন নি। আমর ইবনুল ফাল্লাস ও আবু যুরআহ আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী মুনকারুল হাদিস ও তার মাঝে অমনোযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৯১১, ৯/১৯১ নং পৃষ্ঠা) ২. (আবদুর রহমান বিন যিয়াদ) ইবনু আনউম আল-ইফরিকী সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন বর্জনীয়। ইবনু মাহদী বলেন, তার থেকে হাদিস বর্ণনা করা উচিত নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, আমি তার থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করিনি। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৯৪৮, ৫/৭০ নং পৃষ্ঠা) ৩. ইমরান বিন আবদুল মাআফিরী সম্পর্কে আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৪৯৫, ২২/৩৩৭ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঋণের দায় কত গুরুতর তা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেউ ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা গেলে কেয়ামতের দিন তার থেকে ঋণ আদায় করা হবে। তবে তিনটি বিশেষ কারণে ঋণগ্রস্ত হলে আল্লাহ তাদের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করবেন বলে এসেছে: আল্লাহর পথে শক্তি সঞ্চয়ের প্রয়োজন, কোনো মুসলিমকে দাফন করার জন্য ঋণ, এবং দারিদ্র্যের কারণে দ্বীন রক্ষার ভয়ে বিবাহের জন্য ঋণ। এখানে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে ভারসাম্য আছে। অকারণে দেনা করা ঠিক নয়, কিন্তু প্রয়োজন ও দ্বীনি নিরাপত্তার বাস্তব পরিস্থিতি আলাদা। তাই ঋণকে হালকা ভাবা নয়, আবার সত্য প্রয়োজনকেও অস্বীকার করা নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা যাওয়া গুরুতর বিষয়।
- অকারণ ঋণ নেওয়া থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
- জরুরি ও দ্বীনি প্রয়োজনের ঋণের আলাদা গুরুত্ব আছে।
- ঋণ নিলে শোধের নিয়ত ও দায়িত্ব থাকা দরকার।
