১৫/৮. অধ্যায়ঃ
হাওয়ালা (ঋণের দায় হস্তান্তর) ।
সচ্ছল ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে দেরি কেন জুলুম
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৪০৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৪০৪
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ وَإِذَا أُحِلْتَ عَلَى مَلِيءٍ فَاتْبَعْهُ " .
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সচ্ছল ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম। সচ্ছল ব্যক্তির নিকট তোমার পাওনা থাকলে তার পেছনে লেগে থাকো।
[২৪০৪] আহমাদ ৫৩৭২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আগের হাদিসের একই শিক্ষা আরেক সাহাবির বর্ণনায় এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, সচ্ছল ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম। বিষয়টি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুব দরকারি। অনেক সময় মানুষ সক্ষম থাকা সত্ত্বেও পাওনা দিতে দেরি করে, অজুহাত দেয় বা পাওনাদারকে ঘুরায়। হাদিসটি এমন আচরণকে অন্যায় হিসেবে চিহ্নিত করে। আবার বলা হয়েছে, সচ্ছল ব্যক্তির নিকট তোমার পাওনা থাকলে তার পেছনে লেগে থাকো। তাই ঋণ আদায়ে ভদ্র কিন্তু দৃঢ় হওয়া দোষের নয়। “ধার শোধ”, “ঋণ পরিশোধের হাদিস” ও “পাওনাদারের অধিকার” এখানে স্বাভাবিকভাবে জড়িত। তাই ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা সামাজিক লেনদেনে কথা পরিষ্কার রাখা, হিসাব লিখে রাখা এবং অন্যের হককে সম্মান করা এই শিক্ষার সঙ্গে সুন্দরভাবে মিলে যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সচ্ছল হলে পাওনা দ্রুত পরিশোধের চেষ্টা করা উচিত।
- পাওনাদার নিজের হক চাইলে তা অন্যায় নয়।
- গড়িমসি মানুষের কষ্ট বাড়ায় এবং জুলুমের রূপ নিতে পারে।
