১৫/৬. অধ্যায়ঃ
ওয়াদিয়া (নিরাপদ সংরক্ষণের জন্য প্রদত্ত আমানত) ।
ওয়াদিয়া রাখার হাদিস: আমানতের ক্ষতিপূরণের বিধান
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৪০১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৪০১
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَهْمِ الأَنْمَاطِيُّ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُوَيْدٍ، عَنِ الْمُثَنَّى، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أُودِعَ وَدِيعَةً فَلاَ ضَمَانَ عَلَيْهِ " .
আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কেউ কারো কাছে ওয়াদিয়া রাখলে (তা ধ্বংস হলে) তার কোন ক্ষতিপূরণ নেই।
[২৪০১] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়া ১৫৪৭, সহীহাহ ২৩১৫, আত-তাকীকুর আলার রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ২/১৪৮। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আয়্যুব বিন সুওয়ায়দ সম্পর্কে আবু বকর আল-ইসমাইলী বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬১৬, ৩/৪৭৪ নং পৃষ্ঠা) ২. মুসান্না সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, পূর্ব ইমামগণ তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী ও আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল ছিলেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৭৭৩, ২৭/২০৩ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, কেউ কারো কাছে ওয়াদিয়া বা আমানত রাখলে, তা ধ্বংস হলে আমানতদারের ওপর ক্ষতিপূরণ নেই। এখানে হাদিসের ভাষা সংক্ষিপ্ত, তাই ব্যাখ্যাতেও আমাদের সীমা রাখা দরকার। মূল শিক্ষা হলো, আমানত রাখা আর ঋণ বা ধার নেওয়া এক বিষয় নয়। কেউ যদি কেবল সংরক্ষণের জন্য কোনো জিনিস নেয়, সে ধারগ্রহীতার মতো মালিকসুলভ ব্যবহারকারী নয়। তাই “ওয়াদিয়া”, “আমানতের মাল” ও “ক্ষতিপূরণ” বিষয়ে হাদিসটি একটি বিশেষ দিক দেখায়। তবে আমানতদারকে স্বাভাবিক সতর্কতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে হবে—এটি আমানতের স্বভাবগত দাবি। হাদিসটি লেনদেনে কথা পরিষ্কার রাখার প্রয়োজনও বুঝিয়ে দেয়। তাই ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা সামাজিক লেনদেনে কথা পরিষ্কার রাখা, হিসাব লিখে রাখা এবং অন্যের হককে সম্মান করা এই শিক্ষার সঙ্গে সুন্দরভাবে মিলে যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওয়াদিয়া ও ধার এক ধরনের লেনদেন নয়।
- কারো কাছে আমানত রাখলে তার দায়িত্বের ধরন আলাদা হতে পারে।
- লেনদেনে আগে থেকেই বিষয়টি পরিষ্কার রাখা ঝগড়া কমাতে সাহায্য করে।
