১৩/২২. অধ্যায়ঃ
শিশু পিতা-মাতার মধ্যে যাকে ইচ্ছা বেছে নিতে পারবে।
সন্তানের হেদায়েত ও অভিভাবকত্ব: দোয়ার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৩৫২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৩৫২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ عُثْمَانَ الْبَتِّيِّ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ أَبَوَيْهِ، اخْتَصَمَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحَدُهُمَا كَافِرٌ وَالآخَرُ مُسْلِمٌ فَخَيَّرَهُ فَتَوَجَّهَ إِلَى الْكَافِرِ فَقَالَ " اللَّهُمَّ اهْدِهِ " . فَتَوَجَّهَ إِلَى الْمُسْلِمِ فَقَضَى لَهُ بِهِ .
ইসমু মুবহাম বা নাম অজ্ঞাত হতে বর্ণিতঃ
তার পিতা-মাতা নবী (ﷺ)-এর সামনে (সন্তানের তত্ত্বাবধানের ব্যাপারে) বিবাদ পেশ করে। তাদের একজন ছিল কাফির, অপরজন মুসলিম। তিনি সন্তানকে এখতিয়ার দিলে সে কাফিরের প্রতি আকৃষ্ট হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: হে আল্লাহ! তাকে হেদায়েত দান করুন। অতঃপর সে মুসলিমের প্রতি আকৃষ্ট হয়। অতএব তিনি তাকে মুসলিমের সাথে থাকার ফয়সালা দেন।
[২৩৫২] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সহীহ আবু দাউদ ১৯৪১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল হামিদ বিন সালামাহ সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ইমাম যাহাবী বলেন, তার পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৭১৬, ১৬/৪৩২ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহিহ কিন্তু আবদুল হামিদ বিন সালামাহ এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৫৯ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে একটি জাল, ১২ টি খুবই দুর্বল, ২৫ টি দুর্বল, ৬ টি হাসান, ১৫ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ আবু দাউদ ২২৪৪, আহমাদ ২৩২৪২, ২৩২৪৩, ২৩২৪৪, ২৩২৪৬, দারাকুতনী ৩৯৭২, ৩৯৭৩, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ১২৬১৬।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৩৫২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সন্তানের তত্ত্বাবধান নিয়ে পিতা-মাতা নবী صلى الله عليه وسلم-এর সামনে বিবাদ পেশ করে। তাদের একজন ছিল কাফির, অন্যজন মুসলিম। নবী صلى الله عليه وسلم সন্তানকে এখতিয়ার দেন। প্রথমে সে কাফিরের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, হে আল্লাহ, তাকে হেদায়েত দান করুন। এরপর সে মুসলিমের প্রতি আকৃষ্ট হয়, আর নবী صلى الله عليه وسلم তাকে মুসলিমের সঙ্গে থাকার ফয়সালা দেন। এই বর্ণনায় দুটো বিষয় স্পষ্ট: সন্তানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে, আর হেদায়েতের জন্য দোয়া করা হয়েছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, পারিবারিক বিরোধেও আল্লাহর কাছে সঠিক পথ চাওয়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্তানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে দোয়ার গুরুত্ব আছে।
- হেদায়েত আল্লাহর কাছ থেকে চাওয়া হয়।
- পারিবারিক বিরোধে সন্তানের কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
