১৩/১৭. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি নিজের মালিকানাস্বত্বে প্রতিবেশীর জন্য ক্ষতিকর কিছু নির্মাণ করে।
ক্ষতি করা নিষেধ: ন্যায়ভিত্তিক জীবনের সহজ হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৩৪০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৩৪০
حَدَّثَنَا عَبْدُ رَبِّهِ بْنُ خَالِدٍ النُّمَيْرِيُّ أَبُو الْمُغَلِّسِ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الْوَلِيدِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى أَنْ " لاَ ضَرَرَ وَلاَ ضِرَارَ " .
উবাদাহ ইবনুস সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দিয়েছেন যে, "ক্ষতি করাও যাবে না, ক্ষতি সহাও যাবে না।"
[২৩৪০] আহমাদ ২২২৭২, সহীহাহ ২৫০, ইরওয়া ৮৯৬, গায়াতুল মারাম ৬৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ফুদায়ল বিন সুলায়মান সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম বিন হিব্বান তার সিকাহ গ্রন্থে তার নাম উল্লেখ করেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭৫৯, ২৩/২৭১ নং পৃষ্ঠা) ২. ইসহাক বিন ইয়াহইয়া ইবনুল ওয়ালীদ সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তার হাদিস রক্ষিত নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তার সম্পর্কে অজ্ঞাত। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি তার পিতা থেকে হাদিস শ্রবন করেননি। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৯১, ২/৪৯৩ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৩৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বার্তা খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু জীবনের জন্য গভীর। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم নির্দেশ দিয়েছেন, ক্ষতি করাও যাবে না, ক্ষতি সহাও যাবে না। এখানে ক্ষতি করা নিষেধ—এ কথাটি শুধু বড় অন্যায়ের জন্য নয়; মানুষের অধিকার, সম্পদ, নিরাপত্তা ও শান্তির সঙ্গে জড়িত যে কোনো ক্ষতির ব্যাপারে সতর্ক করে। কেউ নিজের সুবিধার জন্য অন্যকে কষ্টে ফেলবে না, আবার ক্ষতির জবাবও অন্যায় ক্ষতি দিয়ে দেবে না। তাই প্রতিবেশী, লেনদেন, পরিবার বা সমাজ—সব জায়গায় এই হাদিস ন্যায় ও সংযম শেখায়। সহজ ভাষায়, মুসলিমের কাজ হলো নিজের হাতে অন্যের ক্ষতির পথ বন্ধ করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকা ইসলামী আচরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- ক্ষতির জবাবে অন্যায় ক্ষতি করা সঠিক পথ নয়।
- মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় সচেতন থাকা দরকার।
