০/৩৯. অধ্যায়ঃ
জ্ঞানের প্রচারক
উপস্থিতরা অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দিক: জ্ঞান প্রচারের দায়িত্ব
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৩৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৩৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، - أَمْلاَهُ عَلَيْنَا - حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، وَعَنْ رَجُلٍ، آخَرَ هُوَ أَفْضَلُ فِي نَفْسِي مِنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَوْمَ النَّحْرِ فَقَالَ " لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ فَإِنَّهُ رُبَّ مُبَلَّغٍ يُبَلَّغُهُ أَوْعَى لَهُ مِنْ سَامِعٍ " .
আবু বাক্রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) কুরবানির দিন তাঁর ভাষণে বলেন, উপস্থিত ব্যক্তিরা যেন অনুপস্থিতদের নিকট (আমার বাণী) পৌঁছে দেয়। এমনও হতে পারে যে, যাদের নিকট জ্ঞানের কথা পৌঁছানো হয় তারা শ্রোতাদের চাইতে অধিক স্মৃতিধর।
[২৩১] বুখারী ৫৫৫০, মুসলিম ১৬৭৯, আহমাদ ১৯৮৮৩, ১৯৮৯৪, ১৯৯০৬, ১৯৯৮৫; দারিমী ১৯১৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: فَإِنَّهُ শব্দটি ব্যাতিত সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৫/২৭৮/১৪৫৮।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরবানির দিনের ভাষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, উপস্থিত ব্যক্তিরা যেন অনুপস্থিতদের কাছে তাঁর বাণী পৌঁছে দেয়। কারণ এমনও হতে পারে, যার কাছে জ্ঞানের কথা পৌঁছানো হয়, সে সরাসরি শ্রোতার চেয়ে বেশি স্মৃতিধর বা গ্রহণক্ষম হয়। এতে বোঝা যায়, দ্বীনি কথা শুধু সভায় থাকা মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয় নয়। যারা শুনেছে, তাদের দায়িত্ব হলো অনুপস্থিতদের জানানো। এই শিক্ষা পরিবার, সমাজ ও শিক্ষার মজলিসে খুব প্রয়োজনীয়। কেউ যদি ভালো কথা শুনে, তা সংরক্ষণ করে এবং সঠিকভাবে অন্যদের জানায়, তাহলে জ্ঞান ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই প্রচার সত্যনিষ্ঠ ও সতর্কতার সাথে হওয়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যারা উপস্থিত থাকে, তাদের ওপর অনুপস্থিতদের জানানো দায়িত্ব।
- জ্ঞান পৌঁছে গেলে আরও বুঝদার মানুষের উপকার হতে পারে।
- নবীজির বাণী সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
- শোনা কথা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া দরকার।
