১৩/২. অধ্যায়ঃ
জুলুম ও উৎকোচ সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি
কাজী জুলুম না করলে আল্লাহর সাহায্য: ন্যায়বিচারের হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৩১২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৩১২
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ عِمْرَانَ الْقَطَّانِ، عَنْ حُسَيْنٍ، - يَعْنِي ابْنَ عِمْرَانَ - عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ مَعَ الْقَاضِي مَا لَمْ يَجُرْ فَإِذَا جَارَ وَكَلَهُ إِلَى نَفْسِهِ " .
আবদুল্লাহ বিন আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কাজী যতক্ষণ পর্যন্ত জুলুম না করে, আল্লাহ তাঁর সাথে থাকেন। যখন সে জুলুম করে, তখন তিনি তাকে তার নিজের উপর ছেড়ে দেন।
[২৩১২] তিরমিযী ১৩৩০, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১৩৮, মিশকাত ৩৭৪১। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন বিলাল সম্পর্কে আবু জা'ফার আল উকায়লী বলেন, আমার দৃষ্টিতে তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, আমি তার ব্যাপারে ভালো ছাড়া খারাফ কিছু শুনিনি। ইমাম যাহাবী বলেন, মানুষ যেভাবে ভুল করে তিনিও সেরকম ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৯৯, ২৪/৫৪৫ নং পৃষ্ঠা) ২. ইমরান আল-কাত্তান সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায়। আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম আন-নায়সাবুরী বলেন, তিনি সত্যবাদী। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৪৮৯, ২২/৩২৮ নং পৃষ্ঠা) ৩. হুসায়ন বিন ইমরান সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ইমাম বুখারী বলেন, তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৩২৬, ৬/৪৫৭ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৩১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিচারকের জন্য বড় আশার কথা এবং বড় সতর্কতা—দুটোই এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কাজী যতক্ষণ জুলুম না করে, আল্লাহ তার সঙ্গে থাকেন। কিন্তু যখন সে জুলুম করে, তখন আল্লাহ তাকে তার নিজের উপর ছেড়ে দেন। এখানে ন্যায়বিচারের গুরুত্ব খুব স্পষ্ট। বিচারকের শক্তি শুধু পদ বা জ্ঞান নয়; আল্লাহর সাহায্যও দরকার। আর সেই সাহায্য ন্যায় ধরে রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত। কাজী যদি অন্যায়, পক্ষপাত বা জুলুমে যায়, তখন সে বড় ক্ষতির পথে পড়ে। এই হাদিস বিচারক, নেতা এবং যে কোনো সিদ্ধান্তদাতার জন্য শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কাজী জুলুম না করলে আল্লাহর সাহায্যের কথা এসেছে।
- জুলুম করলে মানুষ নিজের উপর ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।
- বিচার কাজে ন্যায় ধরে রাখা সবচেয়ে জরুরি শিক্ষা।
