১২/৬৮. অধ্যায়ঃ
মালিকের অনুমতি ব্যতীত কিছু নেয়া নিষেধ।
সফরে প্রয়োজন হলেও অন্যের সম্পদের সীমা মানতে হবে
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৩০৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৩০৩
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ بِشْرِ بْنِ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنْ سَلِيطِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الطُّهَوِيِّ، عَنْ ذُهَيْلِ بْنِ عَوْفِ بْنِ شَمَّاخٍ الطُّهَوِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي سَفَرٍ إِذْ رَأَيْنَا إِبِلاً مَصْرُورَةً بِعِضَاهِ الشَّجَرِ فَثُبْنَا إِلَيْهَا فَنَادَانَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَرَجَعْنَا إِلَيْهِ فَقَالَ " إِنَّ هَذِهِ الإِبِلَ لأَهْلِ بَيْتٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ هُوَ قُوتُهُمْ وَيُمْنُهُمْ بَعْدَ اللَّهِ أَيَسُرُّكُمْ لَوْ رَجَعْتُمْ إِلَى مَزَاوِدِكُمْ فَوَجَدْتُمْ مَا فِيهَا قَدْ ذُهِبَ بِهِ أَتُرَوْنَ ذَلِكَ عَدْلاً " . قَالُوا لاَ . قَالَ " فَإِنَّ هَذَا كَذَلِكَ " . قُلْنَا أَفَرَأَيْتَ إِنِ احْتَجْنَا إِلَى الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ فَقَالَ " كُلْ وَلاَ تَحْمِلْ وَاشْرَبْ وَلاَ تَحْمِلْ " .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। আমরা কাঁটাযুক্ত গাছের আড়ালে দুগ্ধবতী উট দেখতে পেয়ে সেদিকে দ্রুত ছুটে গেলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে ডাক দিলেন। আমরা তাঁর নিকট ফিরে এলে তিনি বলেন: এই উট কোনো মুসলিম পরিবারের। এগুলোই তাদের খাদ্য এবং বেঁচে থাকার সংস্থান। এগুলো আল্লাহর পর তাদের মালিকানাধীন।তোমাদের কি ভালো লাগবে যে, তোমরা তোমাদের খাদ্যভাণ্ডারে ফিরে গিয়ে তা খাদ্যশূন্য দেখে আসবে? তোমরা কি এটাকে ইনসাফ মনে করো? তারা বলল, না। তিনি বললেন: এটাও তদ্রূপ।আমরা বললাম, আপনি কি মনে করেন, যদি খাদ্য ও পানীয়ের অভাব দেখা দেয়? তিনি বলেন: এমতাবস্থায় তোমরা খেতে পার, কিন্তু সাথে নিয়ে যেতে পারবে না এবং পান করো, কিন্তু সাথে নিয়ে যেতে পারবে না।
[২৩০৩] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী ফিস সুনান ১০/১৩৪, আল-হাকিম ফিল মুসতাদরাক ৪/৯৩। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. ইসমাইল বিন বিশর বিন মানসুর সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে কাদিরিয়া মতাবলম্বী। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে কাদিরিয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সিকাহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪২৭, ৩/৪৯ নং পৃষ্ঠা) ২. হাজ্জাজ বিন আরতা সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বকর আল বায়হাকী বলেন, তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য নয়, অন্যত্র তিনি তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করেন। মুহাম্মাদ বিন সা'দ তাকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি দুর্বল তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১১১২, ৫/৪২০ নং পৃষ্ঠা) ৩. সালীত বিন আবদুল্লাহ আত-তুহাবী সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি কে তার সম্পর্কে কিছু জানা যায়না। ইমাম বুখারী বলেন, সানাদটি অপরিচিত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৪৮১, ১১/৩৩৭ নং পৃষ্ঠা) ৪. যুহায়ল বিন আওফ বিন শাম্মাখ আত-তুহাবী সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৩০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সফরের একটি ঘটনা এসেছে। সাহাবীরা দুগ্ধবতী উট দেখে দ্রুত সেদিকে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাদের ডাকলেন এবং বললেন, এসব উট একটি মুসলিম পরিবারের। এগুলো তাদের খাদ্য ও বেঁচে থাকার সংস্থান। তিনি প্রশ্ন করলেন, তোমরা কি পছন্দ করবে যে, তোমাদের খাদ্যভাণ্ডার খালি পাওয়া যায়? সাহাবীরা বললেন, না। তখন তিনি বুঝিয়ে দিলেন, অন্যের পশুর বিষয়ও এমনই। পরে খাদ্য ও পানীয়ের অভাব হলে কী করা যাবে—এ প্রশ্নে তিনি বললেন, খেতে পার, সঙ্গে নেবে না; পান করো, সঙ্গে নেবে না। এই হাদিসে প্রয়োজন, ইনসাফ এবং মালিকের হক—তিনটি বিষয় সুন্দরভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যের পশু তার পরিবারের খাদ্য ও জীবিকার অংশ হতে পারে।
- নিজের জন্য যা অপছন্দ, অন্যের সম্পদের ক্ষেত্রেও তা ভাবতে হবে।
- প্রয়োজনে খাওয়া-পানার কথা এসেছে, কিন্তু সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই।
