১২/২৫. অধ্যায়ঃ
নিলামে ক্রয়-বিক্রয়।
ভিক্ষার বদলে কাজ: স্বনির্ভরতার নববী শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২১৯৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২১৯৮
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَخْضَرُ بْنُ عَجْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَسْأَلُهُ فَقَالَ " لَكَ فِي بَيْتِكَ شَىْءٌ " . قَالَ بَلَى حِلْسٌ نَلْبَسُ بَعْضَهُ وَنَبْسُطُ بَعْضَهُ وَقَدَحٌ نَشْرَبُ فِيهِ الْمَاءَ . قَالَ " ائْتِنِي بِهِمَا " . قَالَ فَأَتَاهُ بِهِمَا فَأَخَذَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِيَدِهِ ثُمَّ قَالَ " مَنْ يَشْتَرِي هَذَيْنِ " . فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا آخُذُهُمَا بِدِرْهَمٍ . قَالَ " مَنْ يَزِيدُ عَلَى دِرْهَمٍ " . مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا قَالَ رَجُلٌ أَنَا آخُذُهُمَا بِدِرْهَمَيْنِ . فَأَعْطَاهُمَا إِيَّاهُ وَأَخَذَ الدِّرْهَمَيْنِ فَأَعْطَاهُمَا الأَنْصَارِيَّ وَقَالَ " اشْتَرِ بِأَحَدِهِمَا طَعَامًا فَانْبِذْهُ إِلَى أَهْلِكَ وَاشْتَرِ بِالآخَرِ قَدُومًا فَأْتِنِي بِهِ " . فَفَعَلَ فَأَخَذَهُ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَشَدَّ فِيهِ عُودًا بِيَدِهِ وَقَالَ " اذْهَبْ فَاحْتَطِبْ وَلاَ أَرَاكَ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا " . فَجَعَلَ يَحْتَطِبُ وَيَبِيعُ فَجَاءَ وَقَدْ أَصَابَ عَشْرَةَ دَرَاهِمَ فَقَالَ " اشْتَرِ بِبَعْضِهَا طَعَامًا وَبِبَعْضِهَا ثَوْبًا " . ثُمَّ قَالَ " هَذَا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ تَجِيءَ وَالْمَسْأَلَةُ نُكْتَةٌ فِي وَجْهِكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لاَ تَصْلُحُ إِلاَّ لِذِي فَقْرٍ مُدْقِعٍ أَوْ لِذِي غُرْمٍ مُفْظِعٍ أَوْ دَمٍ مُوجِعٍ " .
আনাস বিন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক আনসারী ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে কিছু চাইলে তিনি বলেন: “তোমার ঘরে কি কিছু আছে?” সে বললো, “হ্যাঁ, একটি কম্বল আছে, যার একাংশ আমরা গায়ে দেই এবং অপরাংশ (বিছানা হিসেবে) বিছিয়ে থাকি। আর আছে একটি পানপাত্র, যা দিয়ে আমরা পানি পান করি।” নবী (ﷺ) বলেন: “জিনিস দুটি আমার নিকট নিয়ে এসো।”রাবী বলেন, সে এগুলো তাঁর নিকট নিয়ে আসলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিনিস দুটি নিজ হাতে নিয়ে বলেন: “এই জিনিস দুটি কে কিনবে?” এক ব্যক্তি বললো, “আমি এক দিরহামে তা ক্রয় করতে পারি।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: “এর বেশী মূল্য কে দিবে?” তিনি কথাটি দু’বার অথবা তিনবার বলেন। তখন এক লোক বললো, “আমি দু’ দিরহামে তা কিনতে পারি।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিনিস দুটি তাকে দিয়ে দিরহাম দুটি গ্রহণ করলেন। তিনি তা আনসারী লোকটিকে দিয়ে বললেন: “এর একটি দিরহাম দিয়ে খাদ্য কিনে তোমার পরিবার-পরিজনকে দিয়ে আসো এবং অবশিষ্ট দিরহামটি দিয়ে কুঠার কিনে আমার নিকট নিয়ে আসো।”লোকটি তাই করলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেটি নিয়ে তাতে নিজ হাতে কাঠের হাতল লাগিয়ে দিলেন এবং বললেন: “যাও, জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ করো। আমি যেন পনেরো দিনের মধ্যে তোমাকে না দেখি।” সে কাঠ সংগ্রহ করে বিক্রয় করতে লাগলো। অতঃপর সে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসলো, তখন তার নিকট দশ দিরহাম সঞ্চিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন:(১) এর কিছু দিয়ে খাদ্য কিনে নাও এবং(২) কিছু দিয়ে কাপড়-চোপড় কিনে নাও।”তিনি আরও বলেন: “ভিক্ষার কারণে কেয়ামতের দিন তোমার মুখমণ্ডলে অপমানের চিহ্ন থাকার চেয়ে এটি তোমার জন্য অধিক উত্তম। চরম দরিদ্রতা, কঠিন ঋণের বোঝা অথবা রক্তপণ আদায়ের মত প্রয়োজন ব্যতীত যাচ্ঞা করা সংগত নয়।”
[২১৯৮] আবূ দাউদ ১৬৪১, বায়হাকী ১/৩৮৯, ইরওয়া ১২৮৯, মিশকাত ২৮৭৩। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু বকর আল-হানাফী সম্পর্কে আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান বলেন, তার আদালাত সম্পর্কে কিছু জানা যায়না, তার অবস্থা অজ্ঞাত। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়না। ইবনু আবদুল বার আল-আন্দালাসী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত ও তার সংবাদ মুনকার। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬৭৫, ১৬/৩৩৮ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২১৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক আনসারী ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে কিছু চাইলে তিনি আগে তার ঘরে কী আছে জানতে চান। কম্বল ও পানপাত্র এনে দিলে তিনি সেগুলো বিক্রি করে দুই দিরহাম পান। এক দিরহাম দিয়ে পরিবারকে খাদ্য দিতে বলেন, আরেক দিরহাম দিয়ে কুঠার কিনতে বলেন। এরপর নিজের হাতে কুঠারের হাতল লাগিয়ে তাকে কাঠ সংগ্রহ করে বিক্রি করতে পাঠান। পনেরো দিনের মধ্যে সে দশ দিরহাম আয় করে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে খাদ্য ও কাপড় কিনতে বলেন এবং জানান, চরম দরিদ্রতা, কঠিন ঋণ বা রক্তপণের মতো প্রয়োজন ছাড়া যাচ্ঞা করা সংগত নয়। হাদিসটি কাজ, মর্যাদা এবং প্রয়োজনভিত্তিক সাহায্যের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সক্ষম হলে ভিক্ষার বদলে কাজের পথ খোঁজা উত্তম।
- পরিবারের খাদ্য ও পোশাকের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহায্যের সাথে কর্মের পথও দেখিয়েছেন।
- চরম প্রয়োজন ছাড়া যাচ্ঞা করা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা এসেছে।
