১০/৩১. অধ্যায়ঃ
ক্রীতদাসের তালাক।
তালাকের অধিকার: বিবাহিত স্বামীর হাতে সিদ্ধান্ত
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২০৮১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২০৮১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ مُوسَى بْنِ أَيُّوبَ الْغَافِقِيِّ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ سَيِّدِي زَوَّجَنِي أَمَتَهُ وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنِي وَبَيْنَهَا قَالَ فَصَعِدَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَا بَالُ أَحَدِكُمْ يُزَوِّجُ عَبْدَهُ أَمَتَهُ ثُمَّ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنَهُمَا إِنَّمَا الطَّلَاقُ لِمَنْ أَخَذَ بِالسَّاقِ
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকটে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মনিব তার বাঁদীকে আমার সাথে বিবাহ দিয়েছে। এখন সে আমার আর আমার স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারে আরোহণ করলেন, অতঃপর বললেন, হে লোকসকল! তোমাদের কারো এরূপ আচরণ কেন, যে সে তার গোলামের সাথে তার বাঁদীর বিবাহ দেয়, অতঃপর তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়? নারীর উরু স্পর্শ করা যার জন্য বৈধ, তালাকের অধিকার তার।
[২০৮১] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী ৯/১৫৭, ইরওয়াহ ২০৪১। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী ইবনু লাহীআহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তা দুর্বল। আবু কাসিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ার পর হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। বিশর ইবনুস সারী বলেন, যদি তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হত তবে আমি তার থেকে কোন হাদিস গ্রহন করতাম না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫১৩, ১৫/৪৮৭ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে জানালেন যে তার মনিব নিজের বাঁদীকে তার সঙ্গে বিবাহ দিয়েছে, কিন্তু এখন তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মিম্বারে উঠে লোকদের সতর্ক করলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, কেউ কেন নিজের গোলামের সঙ্গে বাঁদীর বিবাহ দেয়, তারপর তাদের আলাদা করতে চায়? এরপর মূল কথা বলা হলো: নারীর সঙ্গে বৈধ দাম্পত্য সম্পর্ক যার, তালাকের অধিকার তার। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো তালাকের অধিকার নিয়ে অন্যায় হস্তক্ষেপ না করা। এখানে “তালাকের অধিকার”, “ক্রীতদাসের তালাক” এবং “বিবাহ বিচ্ছেদ” বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিবাহ দেওয়ার পর অন্যায়ভাবে দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙতে চাওয়া নিন্দিত আচরণ।
- তালাকের অধিকার দাম্পত্য সম্পর্কে থাকা স্বামীর সঙ্গে যুক্ত।
- পারিবারিক সিদ্ধান্তে ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
