১০/২৯. অধ্যায়ঃ
দাসী দাসত্বমুক্ত হওয়ার সাথে সাথে বিবাহ রদের এখতিয়ার লাভ করে।
বারীরার ইখতিয়ার: সম্পর্ক রাখার বা ছাড়ার সুযোগ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২০৭৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২০৭৮
حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ تَوْبَةَ حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أُذَيْنَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم خَيَّرَ بَرِيرَةَ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বারীরাকে (বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল রাখা বা না রাখার) ইখতিয়ার প্রদান করেন।
[২০৭৮] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী ১/১৮৩। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ, তা’লীক ইবনু মাজাহ। উক্ত হাদিসের রাবী ইয়াহইয়া বিন আবু ইসহাক সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস বর্ণনায় কোন অসুবিধা নেই। আবু হাতিম বিন হিব্বান তার সিকাহ গ্রন্থে তার নাম উল্লেখ করেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৭৮৩, ৩১/১৯৯ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বারীরাকে ইখতিয়ার প্রদান করেন। বর্ণনাটি খুব সংক্ষিপ্ত। তবে পূর্বের বর্ণনাগুলোর আলোকে বোঝা যায়, এটি বারীরার বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল রাখা বা না রাখার ইখতিয়ারের কথা। এখানে মূল শিক্ষা হলো, শরিয়ত কিছু অবস্থায় ব্যক্তিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দেয়। বারীরার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সরাসরি এই ইখতিয়ার দিয়েছেন। হাদিসটি নারী অধিকার নিয়ে অতিরিক্ত স্লোগান নয়; বরং নির্দিষ্ট ঘটনার নির্দিষ্ট বিধান। তাই সহজভাবে বলা যায়, বারীরার ঘটনা দেখায় যে, অবস্থা বদলালে বৈবাহিক সিদ্ধান্তের সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং সেই সুযোগ নবী صلى الله عليه وسلم স্বীকৃতি দিয়েছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বারীরাকে ইখতিয়ার প্রদান করেছেন।
- বৈবাহিক বিষয়ে নির্দিষ্ট অবস্থায় পছন্দের অধিকার থাকতে পারে।
- বারীরার ঘটনা শরিয়তসম্মত সিদ্ধান্তের দৃষ্টান্ত।
- সংক্ষিপ্ত বর্ণনা হলেও এতে গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক শিক্ষা আছে।
