১০/২৭. অধ্যায়ঃ
লিআন ( অভিশাপযুক্ত শপথ )।
কুমারিত্বের অভিযোগে লি‘আন: সম্মান ও মোহরের শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২০৭০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২০৭০
- حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَلَمَةَ النَّيْسَابُورِيُّ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ ابْنِ إِسْحَقَ قَالَ ذَكَرَ طَلْحَةُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ تَزَوَّجَ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ امْرَأَةً مِنْ بَلْعِجْلَانَ فَدَخَلَ بِهَا فَبَاتَ عِنْدَهَا فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ مَا وَجَدْتُهَا عَذْرَاءَ فَرُفِعَ شَأْنُهَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَعَا الْجَارِيَةَ فَسَأَلَهَا فَقَالَتْ بَلَى قَدْ كُنْتُ عَذْرَاءَ فَأَمَرَ بِهِمَا فَتَلَاعَنَا وَأَعْطَاهَا الْمَهْرَ
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আনসার সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি বালআজলান গোত্রের এক নারীকে বিবাহ করে। অতঃপর সে তার ঘরে প্রবেশ করে তার সাথে রাত কাটায়। ভোর হলে সে বললো, আমি তাকে কুমারী পাইনি। তার বিষয়টি নবী (ﷺ)-এর দরবারে পেশ করা হলে তিনি যুবতীকে ডেকে পাঠান। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বললো, হ্যাঁ, অবশ্যই আমি কুমারী ছিলাম। তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিলে তারা উভয়ে লি‘আন করে। তিনি তাকে মোহরানা প্রদানের ব্যবস্থা করেন।
[২০৭০] আহমাদ ২৩৬৩, তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সালিহ। সুলায়মান বিন তারখান ও সুলায়মান বিন মিহরান বলেন, তিনি মিথ্যুক। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি আমার নিকট হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০৭০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক আনসারী পুরুষের ঘটনা এসেছে। তিনি বালআজলান গোত্রের এক নারীকে বিবাহ করেন, তার সাথে রাত কাটান, তারপর সকালে বলেন যে তিনি তাকে কুমারী পাননি। বিষয়টি নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে পেশ করা হয়। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم যুবতীকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন। সে বলে, হ্যাঁ, আমি অবশ্যই কুমারী ছিলাম। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم তাদের উভয়কে লি‘আনের নির্দেশ দেন এবং নারীর মোহরানা প্রদানের ব্যবস্থা করেন। এই হাদিসটি অভিযোগ, নারীর বক্তব্য শোনা, লি‘আনের বিচার এবং মোহরের অধিকার—সবগুলো বিষয় একসাথে শেখায়। এখানে কাউকে একতরফা দোষী করা হয়নি; বরং শরিয়তের বিচারিক পথে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাম্পত্য অভিযোগে উভয় পক্ষের কথা শোনা দরকার।
- নারীর বক্তব্যকে বিচারিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- লি‘আনের মাধ্যমে অভিযোগের নির্দিষ্ট শরিয়তসম্মত সমাধান আছে।
- এই ঘটনায় নারীর মোহরানা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
