১০/২৫. অধ্যায়ঃ
যিহার প্রসঙ্গে।
যিহারের কাফফারা: ভুলের পর সঠিক পথে ফেরার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২০৬২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২০৬২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ صَخْرٍ الْبَيَاضِيِّ قَالَ كُنْتُ امْرَأً أَسْتَكْثِرُ مِنْ النِّسَاءِ لَا أَرَى رَجُلًا كَانَ يُصِيبُ مِنْ ذَلِكَ مَا أُصِيبُ فَلَمَّا دَخَلَ رَمَضَانُ ظَاهَرْتُ مِنْ امْرَأَتِي حَتَّى يَنْسَلِخَ رَمَضَانُ فَبَيْنَمَا هِيَ تُحَدِّثُنِي ذَاتَ لَيْلَةٍ انْكَشَفَ لِي مِنْهَا شَيْءٌ فَوَثَبْتُ عَلَيْهَا فَوَاقَعْتُهَا فَلَمَّا أَصْبَحْتُ غَدَوْتُ عَلَى قَوْمِي فَأَخْبَرْتُهُمْ خَبَرِي وَقُلْتُ لَهُمْ سَلُوا لِي رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا مَا كُنَّا نَفْعَلُ إِذًا يُنْزِلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فِينَا كِتَابًا أَوْ يَكُونَ فِينَا مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَوْلٌ فَيَبْقَى عَلَيْنَا عَارُهُ وَلَكِنْ سَوْفَ نُسَلِّمُكَ لِجَرِيرَتِكَ اذْهَبْ أَنْتَ فَاذْكُرْ شَأْنَكَ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَخَرَجْتُ حَتَّى جِئْتُهُ فَأَخْبَرْتُهُ الْخَبَرَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْتَ بِذَاكَ فَقُلْتُ أَنَا بِذَاكَ وَهَا أَنَا يَا رَسُولَ اللهِ صَابِرٌ لِحُكْمِ اللهِ عَلَيَّ قَالَ فَأَعْتِقْ رَقَبَةً قَالَ قُلْتُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَصْبَحْتُ أَمْلِكُ إِلَّا رَقَبَتِي هَذِهِ قَالَ فَصُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ وَهَلْ دَخَلَ عَلَيَّ مَا دَخَلَ مِنْ الْبَلَاءِ إِلَّا بِالصَّوْمِ قَالَ فَتَصَدَّقْ أَوْ أَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا قَالَ قُلْتُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَقَدْ بِتْنَا لَيْلَتَنَا هَذِهِ مَا لَنَا عَشَاءٌ قَالَ فَاذْهَبْ إِلَى صَاحِبِ صَدَقَةِ بَنِي زُرَيْقٍ فَقُلْ لَهُ فَلْيَدْفَعْهَا إِلَيْكَ وَأَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا وَانْتَفِعْ بِبَقِيَّتِهَا
সালামাহ বিন সাখর আল-বায়াদী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি নারীদের প্রতি অধিক আসক্ত ছিলাম। অন্য পুরুষের তুলনায় আমি তাদের সাথে বেশি সহবাসে লিপ্ত হতাম। রমজান মাস শুরু হলে আমি আমার স্ত্রীর সাথে যিহার করলাম। রমজান মাস প্রায় শেষ হতে যাচ্ছে। একদা রাতের বেলা সে আমার সাথে কথাবার্তা বলছিল তখন তার দেহের একটি অংশ আমার সামনে উন্মুক্ত হয়ে গেলো। আমি তার উপর ঝাপিয়ে পড়লাম এবং তার সাথে সহবাস করলাম। ভোর হলে আমি সকাল সকাল আমার সম্প্রদায়ের লোকদের নিকট উপস্থিত হয়ে তাদেরকে আমার ঘটনাটি জানালাম।আমি তাদের বললাম, তোমরা আমার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করো। তারা বললো, আমরা তা করতে পারবো না। হয়ত বা আল্লাহ আমাদের সম্পর্কে কিতাব (কুরআনের আয়াত) নাযিল করবেন অথবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে এমন কিছু বলবেন, যা আমাদের জন্য লজ্জার কারণ হয়ে থাকবে। বরং আমরা তোমার অপরাধসহ তোমাকে সোপর্দ করবো। তুমি নিজেই গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট তোমার ঘটনাটি বলো।রাবী বলেন, আমি রওয়ানা হয়ে তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে আমার বিষয়টি তাঁকে জানালাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তুমি এটা করেছো? আমি বললাম, আমিই এটা করেছি। আমি এখানে আছি হে আল্লাহর রাসূল! আমার প্রতি আল্লাহর যে হুকুম হয় তাতে আমি ধৈর্য ধারণ করবো।তিনি বলেন, একটি গোলামকে দাসত্বমুক্ত করো। আমি বললাম সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন! আমি আমার দেহটি ছাড়া আর কিছুর মালিক নই।তিনি বলেন: তাহলে একাধারে দুমাস সিয়াম রাখো। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার উপর যে বিপদ এসেছে তা তো এই রোজার কারণেই।তিনি বলেন, তাহলে দান-খয়রাত করো অথবা ষাটজন মিসকিনকে আহার করাও।রাবী বলেন, আমি বললাম, সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন! আমরা এ রাতটি নিরন্ন অবস্থায় অতিবাহিত করেছি।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তুমি বনু যুরাইক-এর যাকাত বণ্টনকারীর নিকট যাও এবং তাঁকে বলো, সে যেন তোমাকে যাকাতের কিছু মাল দান করে। তা দিয়ে তুমি ষাটজন মিসকিনকে আহার করাও এবং অবশিষ্ট যা থাকে তা নিজের উপকারে লাগাও।
[২০৬২] ইবনু মাজাহ ২০৬৪, তিরমিযী ১১৯৮, ১২০০, ৩২৯৯, আবূ দাউদ ২২১৩, আহমাদ ২৩১৮৮, দারেমী ২২৭৩, ইরওয়াহ ২০৯১, সহীহআবী দাউদ ১৯১৭। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সালিহ। সুলায়মান বিন তারখান ও সুলায়মান বিন মিহরান বলেন, তিনি মিথ্যুক। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি আমার নিকট হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালামাহ ইবনু সাখর আল-বায়াদী (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। তিনি রমজান মাসে নিজের স্ত্রীর সাথে যিহার করেন, কিন্তু পরে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে স্ত্রীর সাথে সহবাস করেন। এরপর তিনি ঘটনাটি লুকিয়ে রাখেননি; বরং নিজ সম্প্রদায়ের কাছে জানান এবং শেষে নিজেই রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে গিয়ে বিষয়টি বলেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে প্রথমে দাসমুক্তির নির্দেশ দেন। তিনি অক্ষমতা জানান। এরপর দুই মাস একাধারে রোজা রাখার কথা বলেন। তাতেও তিনি অক্ষমতা প্রকাশ করেন। পরে ষাটজন মিসকিনকে আহার করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁর অভাবের কথা শুনে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم যাকাতের মাল থেকে সহায়তার ব্যবস্থা করেন। হাদিসটি যিহারের কাফফারা, ভুল স্বীকার এবং শরিয়তের সহজ দিক শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভুল হলে তা লুকিয়ে না রেখে শরিয়তের সমাধান জানতে হয়।
- যিহারের কাফফারা ধাপে ধাপে ব্যক্তির সক্ষমতা অনুযায়ী এসেছে।
- অক্ষম ব্যক্তির জন্য রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সহজ পথ দেখিয়েছেন।
- নিজের দুর্বলতা স্বীকার করা সংশোধনের একটি দরজা খুলে দেয়।
