১০/২০. অধ্যায়ঃ
স্বামী তার স্ত্রীকে তালাকের এখতিয়ার প্রদান করলে।
আল্লাহ ও রাসূলকে বেছে নেওয়া: আয়িশা (রাঃ)-এর উত্তর
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২০৫৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২০৫৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَمَّا نَزَلَتْ {وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللهَ وَرَسُولَهُ} دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا عَائِشَةُ إِنِّي ذَاكِرٌ لَكِ أَمْرًا فَلَا عَلَيْكِ أَنْ لَا تَعْجَلِي فِيهِ حَتَّى تَسْتَأْمِرِي أَبَوَيْكِ قَالَتْ قَدْ عَلِمَ وَاللهِ أَنَّ أَبَوَيَّ لَمْ يَكُونَا لِيَأْمُرَانِي بِفِرَاقِهِ قَالَتْ فَقَرَأَ عَلَيَّ {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا} الْآيَاتِ فَقُلْتُ فِي هَذَا أَسْتَأْمِرُ أَبَوَيَّ قَدْ اخْتَرْتُ اللهَ وَرَسُولَهُ
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, যখন এ আয়াতটি নাযিল হলো (অর্থানুবাদ): “যদি তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের সন্তুষ্টি চাও” (সূরা আল-আহযাব ৩৩:২৯), তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট প্রবেশ করে বলেন, হে আয়িশা! আমি তোমাকে একটি কথা জিজ্ঞেস করবো। তুমি তোমার পিতা-মাতার সাথে পরামর্শ না করে সে সম্পর্কে তাড়াহুড়া করে কিছু বলবে না।আয়িশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! তিনি জানতেন যে, নিশ্চয় আমার পিতা-মাতা কখনো তাঁর থেকে আমার বিচ্ছেদের পক্ষে মত দিবেন না।আয়িশা (রাঃ) বলেন, এরপর তিনি আমাকে এ আয়াতটি পড়ে শুনান (অনুবাদ): “হে নবী (ﷺ)! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও এর ভূষণ চাও... (সূরা আল-আহযাব ৩৩:২৮)। তখন আমি বললাম, এ সম্পর্কে আমার পিতা-মাতার সাথে আমি আর কী পরামর্শ করবো! আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-কেই গ্রহণ করলাম।
[২০৫৩] মাজাহ ২০৫২, সহীহুল বুখারী ৪৭৮৬,৫২৬২, ৫২৬৪, মুসলিম ১৪৭৫, ১৪৭৭, তিরমিযী ১১৭৯, ৩২০৪, নাসায়ী ৩২০১, ৩২০২, ৩২০৩, ৩৪৩৯, ৩৪৪১, ৩৪৪২, ৩৪৪৩, ৩৪৪৪, ৩৪৪৫,আবূ দাউদ ২২০৩, আহমাদ ২৩৬৬১, ২৩৭৮৮, ২৪২০০, ২৪৬৬৭, ২৪৭৭১, ২৪৮৪৮, ২৪৮৭৩, ২৪৯৯১, ২৫১৩৮, ২৫১৭৫, ২৫৪৯২, ২৫৫০৫, ২৫৫৭৭, ২৫৭৩৯, দারেমী ২২৬৯, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি কোমল ও গুরুত্বপূর্ণ আচরণ এসেছে। আয়াত নাযিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বললেন, তাড়াহুড়া করে উত্তর না দিতে এবং চাইলে পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ করতে। আয়িশা (রাঃ) বুঝেছিলেন, তাঁর পিতা-মাতা নবী (صلى الله عليه وسلم) থেকে বিচ্ছেদের কথা বলবেন না। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আয়াত পড়ে শুনালেন, যেখানে পার্থিব জীবন ও তার সাজসজ্জা চাওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। আয়িশা (রাঃ) বললেন, এ বিষয়ে পিতা-মাতার সঙ্গে আর কী পরামর্শ করব! আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকেই গ্রহণ করলাম। এই হাদিসে পছন্দ, পরামর্শ ও ঈমানি অগ্রাধিকার স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুতর সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়া না করার শিক্ষা আছে।
- পরামর্শের সুযোগ দেওয়া নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সুন্দর আচরণ।
- আয়িশা (রাঃ) আল্লাহ ও রাসূলকে বেছে নেওয়ার কথা বলেন।
- পার্থিব সাজের সামনে ঈমানি পছন্দকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
