৯/৫৯. অধ্যায়ঃ
সন্তান বিছানার মালিকের এবং ব্যভিচারির জন্য পাথর।
সন্তান বৈধ শয্যাধারীর: জামআর দাসী-পুত্রের ঘটনার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২০০৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২০০৪
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ إِنَّ عَبْدَ بْنَ زَمْعَةَ وَسَعْدًا اخْتَصَمَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي ابْنِ أَمَةِ زَمْعَةَ فَقَالَ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللهِ أَوْصَانِي أَخِي إِذَا قَدِمْتُ مَكَّةَ أَنْ أَنْظُرَ إِلَى ابْنِ أَمَةِ زَمْعَةَ فَأَقْبِضَهُ وَقَالَ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ أَخِي وَابْنُ أَمَةِ أَبِي وُلِدَ عَلَى فِرَاشِ أَبِي فَرَأَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شَبَهَهُ بِعُتْبَةَ فَقَالَ «هُوَ لَكَ يَا عَبْدَ بْنَ زَمْعَةَ الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَاحْتَجِبِي عَنْهُ يَا سَوْدَةُ».
আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আব্দ বিন জামআ ও সাদ (রাঃ) জামআর দাসী-পুত্রকে কেন্দ্র করে নবী (ﷺ)-এর নিকট বিবাদে লিপ্ত হন। সাদ (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাই আমাকে বলেছেন যে, আমি মক্কায় গেলে আমি যেন জামআর দাসী-পুত্রকে খুঁজে বের করি। আর আব্দ বিন জামআ বললো, সে আমার ভাই, আমার পিতার দাসী-পুত্র, সে আমার পিতার শয্যায় জন্মগ্রহণ করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছেলেটিকে ‘উতবার সাথে (গঠনাকৃতিতে) সাদৃশ্যপূর্ণ লক্ষ্য করেন। তিনি বলেনঃ হে আব্দ বিন জামআ! এটি তোমারই প্রাপ্য। সন্তান বিছানার মালিকের (স্বামীর) এবং ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর। আর হে সাওদা! তুমি তার থেকে পর্দা করবে।
[২০০৪] বুখারী ২০৫৩, ২২১৮, ২৪২১, ২৫৩৩, ২৭৪৫, ৪৩০৩, ৬৭৪৯, ৬৭৬৫, ৬৮১৭, ৭১৮২, মুসলিম ১৪৫৭, নাসায়ী ৩৪৮৪, ৩৪৮৭, আবূ দাউদ ২২৭৩, আহমাদ ২৩৫৬৬, ২৪৪৫৪, ২৫৩৬৬, ২৫৪৭০, মুয়াত্তা মালেক ১৪৪৯, দারেমী ২২৩৬, ২২৩৭, সহীহ আবী দাউদ ১৯৬৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আব্দ বিন জামআ ও সাদ রাঃ একটি শিশুকে কেন্দ্র করে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে বিবাদে আসেন। সাদ রাঃ বলেন, তার ভাই তাকে ওই শিশুকে নিতে বলেছেন। আব্দ বিন জামআ বলেন, সে তার ভাই, কারণ সে তার পিতার দাসীর সন্তান এবং তার পিতার শয্যায় জন্মগ্রহণ করেছে। নবী صلى الله عليه وسلم শিশুটির মধ্যে উতবার সাদৃশ্য দেখেন, তবু তিনি ফয়সালা দেন, হে আব্দ বিন জামআ! এটি তোমারই প্রাপ্য। এরপর তিনি বলেন, সন্তান বৈধ শয্যাধারীর এবং ব্যভিচারীর জন্য পাথর। একই সঙ্গে তিনি সাওদা রাঃ-কে ওই শিশুর থেকে পর্দা করতে বলেন। এখানে ফয়সালার ভিত্তি ছিল বৈধ শয্যা, আর সতর্কতার জায়গায় পর্দার নির্দেশও এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বংশ-সম্পর্কের বিষয়ে ফয়সালা অনুমান নয়, শরঈ ভিত্তিতে হয়।
- সন্তান বৈধ শয্যাধারীর—এই নীতি পরিবার রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দিক।
- সাদৃশ্য দেখা গেলেও নবী صلى الله عليه وسلم বিচারিক নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
