৯/৫৬. অধ্যায়ঃ
আত্মমর্যাদাবোধ।
ফাতিমা (রাঃ)-এর কষ্ট ও নবীজির অবস্থান: পরিবারকে কষ্টে না ফেলার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৯৯৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৯৯৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ أَنْبَأَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ أَنَّ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ خَطَبَ بِنْتَ أَبِي جَهْلٍ وَعِنْدَهُ فَاطِمَةُ بِنْتُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا سَمِعَتْ بِذَلِكَ فَاطِمَةُ أَتَتْ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنَّ قَوْمَكَ يَتَحَدَّثُونَ أَنَّكَ لَا تَغْضَبُ لِبَنَاتِكَ وَهَذَا عَلِيٌّ نَاكِحًا ابْنَةَ أَبِي جَهْلٍ قَالَ الْمِسْوَرُ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَسَمِعْتُهُ حِينَ تَشَهَّدَ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي قَدْ أَنْكَحْتُ أَبَا الْعَاصِ بْنَ الرَّبِيعِ فَحَدَّثَنِي فَصَدَقَنِي وَإِنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ بَضْعَةٌ مِنِّي وَأَنَا أَكْرَهُ أَنْ تَفْتِنُوهَا وَإِنَّهَا وَاللهِ لَا تَجْتَمِعُ بِنْتُ رَسُولِ اللهِ وَبِنْتُ عَدُوِّ اللهِ عِنْدَ رَجُلٍ وَاحِدٍ أَبَدًا قَالَ فَنَزَلَ عَلِيٌّ عَنْ الْخِطْبَةِ
মিসওয়ার বিন মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আলী বিন আবু তালিব (রাঃ) আবু জাহলের কন্যাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দেন। অথচ নবী (ﷺ)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) তাঁর বিবাহাধীন ছিলেন। ফাতিমা (রাঃ) তা শুনতে পেয়ে নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলেন, আপনার সম্প্রদায়ের লোক বলাবলি করছে যে, আপনি আপনার কন্যাদের ব্যাপারে কোন কথায় রাগান্বিত হন না। এই আলী আবু জাহলের কন্যাকে বিবাহ করতে যাচ্ছে।মিসওয়ার (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) দাঁড়ালেন, আমি তাঁকে কালিমা শাহাদাত পাঠ করার পর বলতে শুনলামঃ আমি আবুল আস ইবনুর রাবি' এর নিকট আমার এক কন্যার (যয়নব) বিবাহ দিয়েছিলাম। সে আমাকে যে কথা দিয়েছিল তা রক্ষা করেছে।নিশ্চয় ফাতিমা বিনতু মুহাম্মাদ আমার দেহের একটি অংশ। তোমরা তাকে গুনাহে নিক্ষেপ করবে তা আমি পছন্দ করি না। আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রাসূলের কন্যা এবং আল্লাহর দুশমনের কন্যা এক ব্যক্তির অধীন কখনো একত্র হতে পারে না।
[১৯৯৯] ইবনু মাজাহ ১৯৯৮, সহীহুল বুখারী ৩১১০, ৩৭১৪, ৩৭২৯, ৩৭৬৭, ৫২৩০, ৫২৭৮, মুসলিম ২৪৪৯, তিরমিযী ৩৮৬৭, ২০৬৯, ২০৭১, আহমাদ ১৮৪২৮, ১৮৪৩২, ১৮৪৪৭, ১৮৪৫১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯৯৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী (রাঃ) আবু জাহলের কন্যাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন, যখন ফাতিমা (রাঃ) তাঁর বিবাহাধীন ছিলেন। ফাতিমা (রাঃ) বিষয়টি শুনে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আসেন এবং বলেন, লোকেরা বলছে আপনি আপনার কন্যাদের ব্যাপারে রাগান্বিত হন না। এরপর নবীজি (صلى الله عليه وسلم) দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন। তিনি আবুল আস ইবনুর রাবি'র কথা উল্লেখ করেন, যিনি তাঁর কথার সত্যতা রক্ষা করেছিলেন। তারপর বলেন, ফাতিমা বিনতু মুহাম্মাদ তাঁর দেহের অংশ, তিনি চান না মানুষ তাঁকে গুনাহে নিক্ষেপ করুক। শেষে বলেন, আল্লাহর রাসূলের কন্যা এবং আল্লাহর দুশমনের কন্যা এক ব্যক্তির অধীনে একত্র হতে পারে না। হাদিসটি ফাতিমা (রাঃ)-এর মর্যাদা এবং পরিবারের মানসিক কষ্টকে গুরুত্ব দেওয়ার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফাতিমা (রাঃ)-এর কষ্ট নবীজি (صلى الله عليه وسلم) অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন।
- বিবাহসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বিদ্যমান পরিবারের কষ্ট বিবেচনা করা দরকার।
- কথা রক্ষা করা ও সম্পর্কের দায়িত্ব পালন করা প্রশংসনীয় গুণ।
