৯/৫০. অধ্যায়ঃ
স্ত্রীদের সাথে উত্তম আচরণ করা।
সতীনদের মাঝে আচরণ: সংযম, জবাব ও পারিবারিক ভারসাম্য
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৯৮১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৯৮১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ عَنْ زَكَرِيَّا عَنْ خَالِدِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ الْبَهِيِّ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ مَا عَلِمْتُ حَتَّى دَخَلَتْ عَلَيَّ زَيْنَبُ بِغَيْرِ إِذْنٍ وَهِيَ غَضْبَى ثُمَّ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ أَحَسْبُكَ إِذَا قَلَبَتْ بُنَيَّةُ أَبِي بَكْرٍ ذُرَيْعَتَيْهَا ثُمَّ أَقَبَلَتْ عَلَيَّ فَأَعْرَضْتُ عَنْهَا حَتَّى قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم دُونَكِ فَانْتَصِرِي فَأَقْبَلْتُ عَلَيْهَا حَتَّى رَأَيْتُهَا وَقَدْ يَبِسَ رِيقُهَا فِي فِيهَا مَا تَرُدُّ عَلَيَّ شَيْئًا فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَتَهَلَّلُ وَجْهُهُ
আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমার অজ্ঞাতে হঠাৎ যায়নাব (রাঃ) অনুমতি ছাড়াই রাগান্বিত অবস্থায় আমার ঘরে আসলেন, অতঃপর বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আবু বকর (রাঃ)-এর এই ছোট মেয়েটি যখন আপনার সামনে তার দুই হাত নাড়াচাড়া করে, তখন তাই কি আপনার জন্য যথেষ্ট?” অতঃপর যায়নাব (রাঃ) আমার দিকে ফিরলে আমি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলাম। অবশেষে নবী (ﷺ) বলেনঃ “লও এবং তাঁর থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করো।” অতএব আমি তাঁর মুখোমুখী হয়ে তাঁকে জব্দ করলাম, এমনকি আমি দেখলাম যে, তার মুখ শুকিয়ে গেছে। তিনি আমার কোন কথার প্রতিউত্তর করতে পারলেন না। আমি নবী (ﷺ)-কে দেখলাম, তাঁর চেহারা ঝলমল করছে।
[১৯৮১] আহমাদ ২৪০৯৯, সহীহাহ ১৮৬২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ আল-বাহী সম্পর্কে ইবনু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি হাদিস বর্ণনায় ইদতিরাব করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইমাম যাহাবী তাকে সিকাহ বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬৭৭, ১৬/৩৪১ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, যায়নাব (রাঃ) অনুমতি ছাড়া রাগান্বিত অবস্থায় তাঁর ঘরে আসেন এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে আয়িশা (রাঃ)-কে উদ্দেশ করে কথা বলেন। প্রথমে আয়িশা (রাঃ) তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। পরে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে নিজের পক্ষ থেকে জবাব দেওয়ার অনুমতি দেন। এরপর আয়িশা (রাঃ) জবাব দেন, আর যায়নাব (রাঃ) আর প্রতিউত্তর করতে পারেননি। হাদিসটি পারিবারিক জীবনের একটি বাস্তব মুহূর্ত তুলে ধরে। এখানে কোনো বাড়তি বিধান বানানো ঠিক নয়; বরং দেখা যায়, রাগের সময়ও সীমা রাখা দরকার, আর অন্যায় কথা হলে ন্যায্যভাবে নিজের অবস্থান জানানো যেতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাগের অবস্থায় কারও ঘরে ঢোকা ও কথা বলার ক্ষেত্রে শালীনতা জরুরি।
- অন্যায় কথার জবাব ন্যায্যভাবে দেওয়া যেতে পারে।
- পারিবারিক বিরোধে প্রথমে সংযম রাখা ভালো আচরণের অংশ।
