৯/৩৭. অধ্যায়ঃ
দুধপানের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরের দুধপান সম্পর্কে।
দুধপান সম্পর্কের মানদণ্ড: পেট ভরানো দুধপান
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৯৪৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৯৪৬
حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ «لَا رَضَاعَ إِلَّا مَا فَتَقَ الْأَمْعَاءَ».
আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, দুধপান সেটাই গ্রহণযোগ্য (যা খাদ্যনালী ভেদ করে) পাকস্থলী পূর্ণ করে (অর্থাৎ শিশুর দুধপানই ধর্তব্য)।
[১৯৪৬] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়াহ ২১৫০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ইবনু লাহীআহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তা দুর্বল। আবু কাসিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ার পর হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। বিশর ইবনুস সারী বলেন, যদি তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হত তবে আমি তার থেকে কোন হাদিস গ্রহন করতাম না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫১৩, ১৫/৪৮৭ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, দুধপান সেটাই গ্রহণযোগ্য, যা খাদ্যনালী ভেদ করে পাকস্থলী পূর্ণ করে। অনুবাদে স্পষ্ট করা হয়েছে, এখানে শিশুর দুধপানই ধর্তব্য। দুধপানজনিত সম্পর্ক নিয়ে কেউ প্রশ্ন করলে এই হাদিস একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমা দেখায়। শুধু নামমাত্র দুধপান বা খুব সামান্য গ্রহণের কথা এখানে বলা হয়নি; বরং এমন দুধপানের কথা এসেছে যা শরীরের খাদ্য চাহিদার সঙ্গে যুক্ত। তাই দুধপানজনিত মাহরাম বা বিবাহের নিষিদ্ধতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুধপানের প্রকৃতি বোঝা দরকার। এই হাদিস আমাদের হালাল-হারাম বিষয়ে সতর্ক ভাষা ব্যবহার করতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুধপান ধর্তব্য হওয়ার জন্য তা বাস্তব খাদ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।
- দুধপান সম্পর্কের বিষয়ে অস্পষ্ট কথার উপর সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
- বিবাহের নিষিদ্ধতা নিয়ে কথা বলার সময় হাদিসের ভাষা মানতে হয়।
