৯/৩৩. অধ্যায়ঃ
হালালকারী এবং যার জন্য হালাল করা হয়।
তাহলীলকারীর হাদিস: নামমাত্র হালাল করার কঠোর সতর্কতা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৯৩৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৯৩৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ عَنْ زَمْعَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ وَهْرَامَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمُحَلِّلَ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাহলীলকারী এবং যার জন্য তাহলীল করা হয় তাদের উভয়কে অভিসম্পাত করেছেন।
[১৯৩৪] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়াহ ১৮৯৭, মিশকাত ৩২৯৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী যামআহ বিন সালিহ সম্পর্কে ইবনু আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি খুবই দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি সহিহ হাদিসের বিপরীত বর্ণনা করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২০০৩, ৯/৩৮৬ নং পৃষ্ঠা) ২. সালামাহ বিন ওয়াহহাম সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আল-জুরজানী বলেন, আমি আশা করি যামআহ ছাড়া তার বর্ণনায় কোন অসুবিধা নেই। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম আন-নায়সাবুরী বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য নয় তবে তা দলীল যোগ্য হবে না। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদ। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, যামআহ বিন সালিহ কর্তৃক বর্ণিত হাদিস ছাড়া তিনি সত্যবাদী অন্যথায় তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৪৭৪, ১১/৩৮২ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহিহ কিন্তু যামআহ বিন সালিহ ও সালামাহ বিন ওয়াহহাম এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৫৩ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে। তন্মধ্যে ২০ টি অধিক দুর্বল, ১৫ টি দুর্বল, ১৬ টি হাসান, ২ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, তিরমিযি ১১১৯, ১১২০, আবু দাউদ ২০৭৬, দারিমী ২২৫৮, আহমাদ ৪২৯৬, ৮০৮৮, দারাকুতনী ৩৫৭৬, শারহুস সুন্নাহ ২২৯৩ ইত্যাদি।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাহলীলকারী এবং যার জন্য তাহলীল করা হয়, উভয়কে অভিসম্পাত করেছেন। তাহলীল বলতে এখানে এমন কাজে জড়ানো বোঝায়, যেখানে কোনো নারীকে প্রথম স্বামীর জন্য হালাল করার উদ্দেশ্যে বিয়ের বিষয় ব্যবহার করা হয়। হাদিসের ভাষা খুব কঠোর, তাই বিষয়টিকে হালকা করে দেখা ঠিক নয়। আগের হাদিসগুলোতে তিন তালাকের পর ফেরার ক্ষেত্রে বাস্তব দাম্পত্য সম্পর্কের কথা এসেছে। আর এই হাদিস দেখায়, পরিকল্পিতভাবে হালাল করার খেলা করা নিন্দিত। বিবাহকে কৌশল বা সাময়িক ব্যবস্থার মতো ব্যবহার করা ইসলামের সুন্দর দাম্পত্য নীতির সাথে মানানসই নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাহলীলকারী সম্পর্কে হাদিসে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
- যার জন্য তাহলীল করা হয়, তাকেও সতর্ক করা হয়েছে।
- বিবাহকে কৌশল বা নামমাত্র ব্যবস্থায় পরিণত করা ঠিক নয়।
- তালাক ও বিবাহের বিধানকে গুরুত্বের সাথে মানতে হবে।
