৯/১৭. অধ্যায়ঃ

মহিলাদের মাহর (মোহরানা)

মাহরে বাড়াবাড়ি নয়: সহজ বিবাহের বাস্তব শিক্ষা

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৮৮৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ ابْنِ عَوْنٍ ح و حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي الْعَجْفَاءِ السُّلَمِيِّ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لَا تُغَالُوا صَدَاقَ النِّسَاءِ فَإِنَّهَا لَوْ كَانَتْ مَكْرُمَةً فِي الدُّنْيَا أَوْ تَقْوًى عِنْدَ اللهِ كَانَ أَوْلَاكُمْ وَأَحَقَّكُمْ بِهَا مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم مَا أَصْدَقَ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِ وَلَا أُصْدِقَتْ امْرَأَةٌ مِنْ بَنَاتِهِ أَكْثَرَ مِنْ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيُثَقِّلُ صَدَقَةَ امْرَأَتِهِ حَتَّى يَكُونَ لَهَا عَدَاوَةٌ فِي نَفْسِهِ وَيَقُولُ قَدْ كَلِفْتُ إِلَيْكِ عَلَقَ الْقِرْبَةِ أَوْ عَرَقَ الْقِرْبَةِ وَكُنْتُ رَجُلًا عَرَبِيًّا مَوْلِدًا مَا أَدْرِي مَا عَلَقُ الْقِرْبَةِ أَوْ عَرَقُ الْقِرْبَةِ

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, মহিলাদের মাহরের ব্যাপারে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না। কেননা তা যদি পার্থিব জীবনে সম্মান অথবা আল্লাহর কাছে তাকওয়ার প্রতীক হতো, তাহলে তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ব্যাপারে অধিক যোগ্য ও অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি তাঁর স্ত্রী ও কন্যাদের মাহর বারো উকিয়ার বেশি ধার্য করেননি। কখনও অধিক মাহর স্বামীর উপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর মনে শত্রুতা সৃষ্টি হয়, এমনকি সে বলতে থাকে, আমি তোমার জন্য পানির মশক বহনে বাধ্য হয়েছি অথবা তোমার জন্য ঘর্মাক্ত হয়ে পড়েছি। (রাবী বলেন), আমি একজন বেদুঈন, অতএব আমি “আলাকাল কিরবা” বা “আরাকাল কিরবা”-এর অর্থ কি তা জানি না।

[১৮৮৭] তিরমিযী ১১১৪, নাসায়ী ৩৩৪৯, আবূ দাউদ ২১০৬, ২৮৭, দারেমী ২২০০, মিশকাত ৩২০৪, সহীহ আবী দাউদ ১৮৩৪, ইরওয়াহ ১৯২৭। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ।

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৮৭-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) মহিলাদের মাহরে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, মাহর যদি দুনিয়ার সম্মান বা আল্লাহর কাছে তাকওয়ার প্রতীক হতো, তবে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এ বিষয়ে বেশি যোগ্য ছিলেন। অথচ তাঁর স্ত্রী ও কন্যাদের মাহর বারো উকিয়ার বেশি ধার্য করা হয়নি। বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মাহর কখনও স্বামীর উপর বোঝা হতে পারে এবং এতে মনে বিরক্তি জন্মাতে পারে। তাই “মাহর বেশি ধার্য করা”, “মোহরানা বাড়াবাড়ি” এবং “সহজ বিবাহ” বিষয়ে হাদিসটি খুব বাস্তব শিক্ষা দেয়। এখানে অতিরঞ্জন নয়, ভারসাম্যই মূল কথা। তাই হাদিসটি সমাজে বিবাহ সহজ করার আলোচনায় খুব প্রাসঙ্গিক। এটি মাহরকে সম্মান করে, কিন্তু অহেতুক বোঝা বানাতে বলে না।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মাহর ধার্যে বাড়াবাড়ি থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
  • বেশি মাহর সম্মান বা তাকওয়ার একমাত্র মাপকাঠি নয়।
  • অতিরিক্ত মাহর কখনও স্বামীর উপর বোঝা হতে পারে।
  • বিবাহকে সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ রাখা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন