৮/২৬. অধ্যায়ঃ
স্বচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও যে ব্যক্তি যাচ্ঞা করে।
অপ্রয়োজনীয় ভিক্ষা: সচ্ছল ব্যক্তির জন্য কঠিন সতর্কবার্তা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৮৪০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৮৪০
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلَّالُ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ سَأَلَ وَلَهُ مَا يُغْنِيهِ جَاءَتْ مَسْأَلَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ خُدُوشًا أَوْ خُمُوشًا أَوْ كُدُوحًا فِي وَجْهِهِ قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا يُغْنِيهِ قَالَ خَمْسُونَ دِرْهَمًا أَوْ قِيمَتُهَا مِنْ الذَّهَبِفَقَالَ رَجُلٌ لِسُفْيَانَ إِنَّ شُعْبَةَ لَا يُحَدِّثُ عَنْ حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ» فَقَالَ سُفْيَانُ قَدْ حَدَّثَنَاهُ زُبَيْدٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ.
আবদুল্লাহ্ বিন মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যার স্বনির্ভর থাকার মত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও (অন্যের কাছে কিছু) চায়, সে কেয়ামতের দিন আহত মুখমণ্ডলসহ হাজির হবে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! সচ্ছলতার সীমা কতটুকু? তিনি বলেন, পঞ্চাশ দিরহাম অথবা তার সমমূল্যের সোনা। এক ব্যক্তি সুফিয়ানকে বললো, শু'বাহ তো হাকীম বিন জুবায়রের সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেন না। তখন সুফিয়ান বললেন, আমার নিকট এ হাদিস যায়দ (রাঃ) মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
[১৮৪০] তিরমিযী ৬৫০, নাসায়ী ২৫৯২, আবূ দাউদ ১৬২৬, আহমাদ ৩৬৬৬, ৪১৯৫, ৪৪২৬, দারেমী ১৬৪০, সহীহাহ ৪৯৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী হাকিম বিন জুবায়র সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল ও ইদতিরাব করেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল ও মুনকার। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, কোন সমস্যা নেই। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৪৫২, ৭/১৬৫ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহিহ কিন্তু হাকিম বিন জুবায়র এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৩৩২ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ৩৩ টি জাল, ৪৯ টি অধিক দুর্বল, ৭৮ টি দুর্বল, ৮৬ টি হাসান, ৮৬ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ১৪৭৫, মুসলিম ১০৪২, ১০৪৩, তিরমিযি ৬৫০, আবু দাউদ ১৬২৬, ১৬২৭, ১৬২৯, দারিমী ১৬৪০, ১৬৪৫, আহমাদ ১২৫৬, ৩৬৬৬, ৪১৯৫, ৪৪২৬, ৪৬২৪, ৫৫৮৪, দারাকুতনী ১৯৮০, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৩, ১৯৮৫ ইত্যাদি।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, যার নিজের প্রয়োজন পূরণের মতো সম্পদ আছে, তার জন্য অন্যের কাছে চাওয়া ঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, এমন ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আহত মুখমণ্ডলসহ হাজির হবে। এখানে অপ্রয়োজনীয় ভিক্ষা ও আত্মসম্মানের বিষয়টি খুব স্পষ্ট। কেউ সত্যিই অভাবগ্রস্ত হলে সাহায্য চাওয়া ভিন্ন বিষয়, কিন্তু সচ্ছল হয়েও মানুষের কাছে হাত পাতা ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। হাদিসে সচ্ছলতার একটি সীমাও বলা হয়েছে—পঞ্চাশ দিরহাম বা তার সমমূল্যের সোনা। তাই মুসলিমের উচিত নিজের অবস্থা বুঝে চলা, অযথা মানুষের কাছে না চাওয়া এবং হালাল উপায়ে স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সচ্ছল ব্যক্তির জন্য অকারণে মানুষের কাছে চাওয়া নিন্দনীয়।
- নিজের প্রয়োজন পূরণের মতো সম্পদ থাকলে আত্মসম্মান ধরে রাখা উচিত।
- কিয়ামতের জবাবদিহির কথা মনে রেখে দুনিয়ার আচরণ ঠিক করা দরকার।
- সাহায্য চাওয়ার আগে নিজের বাস্তব প্রয়োজন যাচাই করা উচিত।
