৮/২২. অধ্যায়ঃ
উশর ও খাজনা।
উশর ও খাজনা: শরীকানা বাগানে ভিন্ন দায়িত্বের হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৮৩১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৮৩১
حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ جُنَيْدٍ الدَّامَغَانِيُّ حَدَّثَنَا عَتَّابُ بْنُ زِيَادٍ الْمُرْوَزِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو حَمْزَةَ قَالَ سَمِعْتُ مُغِيرَةَ الْأَزْدِيَّ يُحَدِّثُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ حَيَّانَ الْأَعْرَجِ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ الْحَضْرَمِيِّ قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْبَحْرَيْنِ أَوْ إِلَى هَجَرَ فَكُنْتُ آتِي الْحَائِطَ يَكُونُ بَيْنَ الْإِخْوَةِ يُسْلِمُ أَحَدُهُمْ فَآخُذُ مِنْ الْمُسْلِمِ الْعُشْرَ وَمِنْ الْمُشْرِكِ الْخَرَاجَ
আলা’ ইবনুল হাদরামী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বাহরাইন বা হাজার এলাকায় পাঠান। আমি দুই সহোদর মুসলমান ও মুশরিক ভাইয়ের শরীকানা বাগানে পৌঁছে মুসলমান ভাইয়ের নিকট থেকে উশর এবং মুশরিক ভাইয়ের নিকট থেকে খাজনা আদায় করতাম।
[১৮৩১] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আহমাদ ২০০৪, তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুগিরাহ আল-আযদী সম্পর্কে আল্লামাহ আল-বুসায়রী তার যাওয়ায়িদ গ্রন্থে বলেছেন, তিনি অজ্ঞাত। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, আমি তার মাঝে কোন সমস্যা দেখি না। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী তাকে সত্যবাদী বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬১৪২, ২৮/৩৯৫ নং পৃষ্ঠা) ২. মুহাম্মাদ বিন যায়দ সম্পর্কে আল্লামাহ বুসায়রী তার যাওয়ায়িদ গ্রন্থে বলেছেন, তিনি অজ্ঞাত। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহনে কোন দোষ নেই। আবু হাতিম বিন হিব্বান তার সিকাহ গ্রন্থে তার নাম উল্লেখ করেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাকবুল। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইমাম যাহাবী তাকে সত্যবাদী বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫২২৬, ২৫/২২৮ নং পৃষ্ঠা) ৩. হায়্যান আ'রাজ সম্পর্কে যদিও ইবনু মাঈন তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। এবং ইবনু মাঈন তাকে সিকাহ বলে গণ্য করেছেন কিন্তু আল্লামা মিযযী তার আত-তাহযীব গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আলা সুত্রে তার বর্ণনাটি মুরসাল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৫৭৮, ৭/৪৭৬ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো উশর ও খাজনা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বর্ণনাকারীকে বাহরাইন বা হাজার এলাকায় পাঠান। তিনি এমন বাগানে যেতেন, যেখানে দুই সহোদর ভাই শরীক ছিল—একজন মুসলিম, অন্যজন মুশরিক। একই শরীকানা বাগানের মুসলিম ভাইয়ের অংশ থেকে তিনি উশর আদায় করতেন, আর মুশরিক ভাইয়ের অংশ থেকে খাজনা আদায় করতেন। হাদিসটি দেখায়, একই জমি বা বাগানে অংশীদার থাকলেও ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় ও দায়িত্ব অনুযায়ী আদায়ের ধরন আলাদা হতে পারে। এখানে বিস্তারিত হার বা হিসাব বলা হয়নি; শুধু উশর ও খাজনার ভিন্ন আদায়ের কথা এসেছে। তাই ব্যাখ্যা সীমিত রাখা জরুরি। মূল শিক্ষা হলো, সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেক অংশীদারের অধিকার ও দায় আলাদাভাবে বিবেচনা করা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শরীকানা সম্পদে প্রত্যেক অংশীদারের দায় আলাদা হতে পারে।
- মুসলিম অংশ থেকে উশর আদায়ের বর্ণনা এসেছে।
- মুশরিক অংশ থেকে খাজনা আদায়ের কথা এসেছে।
- রাজস্ব বা সম্পদ আদায়ে ব্যক্তির অবস্থা বিবেচনা করা হয়েছে।
