৮/১৯. অধ্যায়ঃ
যাকাত বাবদ নিকৃষ্ট মাল দেয়া নিষেধ ।
দান করার আদব: নিকৃষ্ট নয়, ভালো জিনিস দান করুন
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৮২১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৮২১
- حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ حَدَّثَنِي صَالِحُ بْنُ أَبِي عَرِيبٍ عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ الْحَضْرَمِيِّ عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الْأَشْجَعِيِّ قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ عَلَّقَ رَجُلٌ أَقْنَاءً أَوْ قِنْوًا وَبِيَدِهِ عَصًا فَجَعَلَ يَطْعَنُ يُدَقْدِقُ فِي ذَلِكَ الْقِنْوِ وَيَقُولُ لَوْ شَاءَ رَبُّ هَذِهِ الصَّدَقَةِ تَصَدَّقَ بِأَطْيَبَ مِنْهَا إِنَّ رَبَّ هَذِهِ الصَّدَقَةِ يَأْكُلُ الْحَشَفَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
আওফ বিন মালিক আল-আশজাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বাইরে এসে দেখেন যে, এক ব্যক্তি মসজিদে কয়েকটি খেজুরের ছড়া ঝুলিয়ে রেখেছে। তাঁর হাতে ছিল একটি ছড়ি। তিনি ছড়ি দিয়ে এগুলোতে টোকা দিলেন এবং বললেনঃ ইচ্ছা করলে এই দানকারী আরও উৎকৃষ্টগুলো দান করতে পারত। এই দানের মালিক কেয়ামতের দিন তার নিকৃষ্ট মালই খেতে পাবে।
[১৮২১] নাসায়ী ২৪৯৩, আবূ দাউদ ১৬০৮, আহমাদ ২৩৪৫৬, সহীহ আবী দাউদ ১৪২৬। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল হামিদ বিন জা'ফার সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো সন্দেহ করেন, তার শীয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। সুফইয়ান আস-সাওরী বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৭০৯, ১৬/৪১৬ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো দান করার আদব। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মসজিদে ঝুলানো খেজুরের ছড়া দেখলেন। দানকারী ব্যক্তি সেগুলো দান করেছিল, কিন্তু সেগুলো ভালো মানের ছিল না। নবী (صلى الله عليه وسلم) হাতে থাকা ছড়ি দিয়ে খেজুরে টোকা দিয়ে বললেন, ইচ্ছা করলে এই দানকারী আরও উৎকৃষ্টগুলো দান করতে পারত। এরপর তিনি সতর্ক করে বলেন, এই দানের মালিক কিয়ামতের দিন তার নিকৃষ্ট মালই খেতে পাবে। হাদিসটি খুব সরলভাবে বোঝায়, দান মানে শুধু কিছু দিয়ে দেওয়া নয়। নিজের কাছে ভালো রেখে অন্যকে নিম্ন মানের জিনিস দেওয়া দানের সৌন্দর্যের সাথে যায় না। সদকা বা দান করার সময় মানুষের প্রয়োজন, সম্মান এবং নিজের নিয়ত—সবকিছু মনে রাখা দরকার। এতে আমলটি বুঝতে আরও সহজ হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দান করার সময় নিম্ন মানের জিনিস বেছে দেওয়া ঠিক নয়।
- সদকা আন্তরিকতার সাথে হলে তার সৌন্দর্য বাড়ে।
- যা নিজে ভালো মনে করি না, তা অন্যকে দেওয়ার আগে ভাবা উচিত।
- দানকারীর দায়িত্ব হলো সম্মানজনক জিনিস দেওয়া।
