৮/১৮. অধ্যায়ঃ
অনুমানে খেজুর ও আঙ্গুরের পরিমাণ নির্ধারণ।
খায়বার চুক্তি: ফসল বণ্টনে ন্যায় ও খারসের শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৮২০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৮২০
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مَرْوَانَ الرَّقِّيُّ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَيُّوبَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حِينَ افْتَتَحَ خَيْبَرَ اشْتَرَطَ عَلَيْهِمْ أَنَّ لَهُ الْأَرْضَ وَكُلَّ صَفْرَاءَ وَبَيْضَاءَ يَعْنِي الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَقَالَ لَهُ أَهْلُ خَيْبَرَ نَحْنُ أَعْلَمُ بِالْأَرْضِ فَأَعْطِنَاهَا عَلَى أَنْ نَعْمَلَهَا وَيَكُونَ لَنَا نِصْفُ الثَّمَرَةِ وَلَكُمْ نِصْفُهَا فَزَعَمَ أَنَّهُ أَعْطَاهُمْ عَلَى ذَلِكَ فَلَمَّا كَانَ حِينَ يُصْرَمُ النَّخْلُ بَعَثَ إِلَيْهِمْ ابْنَ رَوَاحَةَ فَحَزَرَ النَّخْلَ وَهُوَ الَّذِي يَدْعُونَهُ أَهْلُ الْمَدِينَةِ الْخَرْصَ فَقَالَ فِي ذَا كَذَا وَكَذَا فَقَالُوا أَكْثَرْتَ عَلَيْنَا يَا ابْنَ رَوَاحَةَ فَقَالَ فَأَنَا أَحْزِرُ النَّخْلَ وَأُعْطِيكُمْ نِصْفَ الَّذِي قُلْتُ قَالَ فَقَالُوا هَذَا الْحَقُّ وَبِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ فَقَالُوا قَدْ رَضِينَا أَنْ نَأْخُذَ بِالَّذِي قُلْتَ
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) খায়বার জয় করে সেখানকার (ইয়াহুদী) আদিবাসীদের সাথে এ চুক্তি করেন যে, খায়বারের ভূমি ও সোনা-রূপা তাঁর (ﷺ) সরকারের মালিকানাভুক্ত থাকবে। খায়বারবাসীগণ তাঁকে বললো, আমরা জমাজমি (কৃষিকার্য) সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। অতএব আপনি ভূমি (চাষাবাদের জন্য) এ শর্তে আমাদেরকে ছেড়ে দিন যে, ফল ও ফসলের অর্ধেক আমাদের এবং অর্ধেক আপনাদের।রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উক্ত শর্তে খায়বারের ভূমি তাদেরকে (চাষাবাদের জন্য) দিলেন। খেজুর গাছের ফল কাটার সময় হলে তিনি আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রাঃ)-কে তাদের নিকট পাঠান। তিনি গিয়ে অনুমানে ফলের পরিমাণ নিরূপণ করলেন। মদিনাবাসীর নিকট এ অনুমানের পরিভাষা হলো ‘খারস’।তিনি বলেন, বাগানে এই এই পরিমাণ ফল হবে। ইয়াহুদীরা বললো, হে বিন রাওয়াহা! আপনি আমাদের উপর অধিক ধার্য করেছেন।বিন রাওয়াহা (রাঃ) বলেন, আমি তো অনুমান করছি এবং যা ধার্য করছি তার অর্ধেকই তো তোমাদের দিব। তারা বললো, এটাই সঠিক (ইনসাফ) এবং এ কারণেই আসমান-যমীন প্রতিষ্ঠিত আছে। অতঃপর তারা বললো, আপনি যা বলেছেন, আমরা তাতে সম্মত হলাম।
[১৮২০] আবূ দাউদ ৩৪১০, তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী উমার বিন আয়্যুব সম্পর্কে আবু বকর বিন আবু শায়বাহ বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সালিহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪২০৪, ২১/২৭৮ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো খায়বার চুক্তি, ফসল বণ্টন এবং ন্যায়ভিত্তিক হিসাব। নবী (صلى الله عليه وسلم) খায়বার জয়ের পর ভূমি ও সোনা-রূপা সরকারের অধীনে রাখেন। খায়বারবাসী কৃষিকাজে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলে জমি চাষের সুযোগ চায়। শর্ত হয়, ফল ও ফসলের অর্ধেক তাদের এবং অর্ধেক মুসলিমদের। পরে ফল কাটার সময় আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রাঃ) পাঠানো হয়। তিনি অনুমান করে ফলের পরিমাণ নির্ধারণ করেন, যাকে মদিনাবাসী খারস বলত। ইহুদিরা প্রথমে বেশি ধার্য করার অভিযোগ করে। কিন্তু তিনি বলেন, অনুমান অনুযায়ী অর্ধেকই তাদের দেওয়া হবে। এতে তারা এই হিসাবকে ইনসাফ বলে মেনে নেয়। হাদিসটি দেখায়, চুক্তি, কৃষি উৎপাদন ও সম্পদ বণ্টনে পরিষ্কার শর্ত এবং ন্যায্য হিসাব জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চুক্তির শর্ত পরিষ্কার হলে বিরোধ কমে।
- ফসল বণ্টনে অনুমানভিত্তিক হিসাবও ন্যায়ের সাথে হতে পারে।
- দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির আচরণে ইনসাফ থাকা দরকার।
- উৎপাদনের ভাগ দেওয়ার সময় উভয় পক্ষের অধিকার মানা জরুরি।
