০/৩৪. অধ্যায়ঃ
জাহমিয়াহ্ সম্প্রদায় যা অমান্য করে
রবকে দেখা যাবে কি: সূর্য ও চাঁদের উদাহরণে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর উত্তর
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৭৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৭৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَرَى رَبَّنَا قَالَ " تَضَامُّونَ فِي رُؤْيَةِ الشَّمْسِ فِي الظَّهِيرَةِ فِي غَيْرِ سَحَابٍ " . قُلْنَا لاَ . قَالَ " فَتَضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ فِي غَيْرِ سَحَابٍ " . قَالُوا لاَ . قَالَ " إِنَّكُمْ لاَ تَضَارُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ إِلاَّ كَمَا تَضَارُّونَ فِي رُؤْيَتِهِمَا " .
আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা কি আমাদের রবকে দেখতে পাবো? তিনি বলেন, তোমরা কি ঠিক দুপুরে মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে বাধাগ্রস্ত হও? আমরা বললাম, না। তিনি আবার বললেন, পূর্ণিমার রাতে মেঘমুক্ত আকাশে তোমাদের চাঁদ দেখতে কি অসুবিধা হয়? তারা বলেন, না। তিনি বলেন, ঐ দুটি দেখতে তোমাদের যেমন কষ্ট হয় না, তদ্রূপ তাঁর দর্শন লাভেও তোমাদের কোনো কষ্ট হবে না।
[১৭৭] আহমাদ ১০৭৩৬ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাহাবীরা জিজ্ঞেস করেন, তারা কি তাদের রবকে দেখতে পাবেন? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উত্তরে প্রথমে মেঘমুক্ত দুপুরে সূর্য দেখার কথা বলেন—এতে কি বাধা হয়? তারা বলেন, না। এরপর পূর্ণিমার রাতে মেঘমুক্ত আকাশে চাঁদ দেখার কথা বলেন—এতেও কি অসুবিধা হয়? তারা বলেন, না। তারপর নবী (صلى الله عليه وسلم) জানান, ঐ দুটি দেখার মতোই তাঁর দর্শন লাভে কোনো কষ্ট হবে না। এখানে রবের দর্শনের বিশ্বাসকে সহজ উদাহরণে বোঝানো হয়েছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, আখিরাতের বিষয়গুলো নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথার ওপর ভরসা করে মানতে হয় এবং অপ্রয়োজনীয় কল্পনা থেকে দূরে থাকতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর দর্শনের বিষয়ে সাহাবীদের প্রশ্নের সরাসরি জবাব এসেছে।
- সূর্য ও চাঁদের উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি সহজভাবে বোঝানো হয়েছে।
- আখিরাতের অদৃশ্য বিষয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বাণীকে মানদণ্ড বানাতে হবে।
