৮/৩. অধ্যায়ঃ
যে মালের যাকাত আদায় করা হয় তা পুঞ্জীভূত সম্পদ নয়।
মালের যাকাত আদায়: দায়িত্ব পূরণের সহজ শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৭৮৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৭৮৮
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ عَنْ دَرَّاجٍ أَبِي السَّمْحِ عَنْ ابْنِ حُجَيْرَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا أَدَّيْتَ زَكَاةَ مَالِكَ فَقَدْ قَضَيْتَ مَا عَلَيْكَ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: যখন তুমি তোমার মালের যাকাত আদায় করো, তখন তুমি তোমার দায়িত্ব সম্পন্ন করে ফেলো।
[১৭৮৮] তিরমিযী ৬১৮, যঈফাহ ২২১৮। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী দাররাজ আবুস সামহ সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু আবুল হায়সাম থেকে হাদিস বর্ণনায় তার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। আহমাদ বিন হাম্বল তাকে মুনকার বলেছেন। আবু বিশর আদ-দাওলানী বলেন, তিনি কুফুরী নয় এমন কোন কওলী বা আমলী ফিসক এর সাথে জড়িত। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইমাম দারাকুতনী তাকে দুর্বল বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৭৯৭, ৮/৪৭৭ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৭৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যখন তুমি তোমার মালের যাকাত আদায় করো, তখন তুমি তোমার দায়িত্ব সম্পন্ন করে ফেলো। কথাটি ছোট, কিন্তু শিক্ষা খুব পরিষ্কার। মালের যাকাত এমন একটি নির্দিষ্ট হক, যা আদায় করলে বান্দা তার ওপর থাকা কর্তব্য পূরণ করে। এখানে যাকাতের গুরুত্বকে সহজভাবে বলা হয়েছে: শুধু সম্পদ রাখা নয়, সম্পদের হকও দিতে হবে। হাদিসটি মানুষকে আশ্বস্তও করে যে নির্ধারিত যাকাত আদায় করা দায়িত্ব পালনের মূল অংশ। তবে এই কথার বাইরে অন্য দান, সদকা বা নেক কাজের আলাদা ফজিলত নিয়ে এখানে আলোচনা নেই। তাই ব্যাখ্যায় হাদিসের সীমা মেনে বলা যায়, যাকাতের হিসাব জানা, সময়মতো আদায় করা এবং দায়িত্ব শেষ করার মনোভাব রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মালের যাকাত আদায় করা একটি স্পষ্ট দায়িত্ব।
- যাকাত দিলে নির্ধারিত হক আদায় হয়।
- সম্পদের হিসাব রেখে যাকাত দেওয়া দরকার।
- এই হাদিস যাকাতকে সহজ ও পরিষ্কার কর্তব্য হিসেবে তুলে ধরে।
