৭/৪৬. অধ্যায়ঃ
রোযাদারের সামনে কেউ পানাহার করলে।
বিলাল (রাঃ)-এর সিয়াম: রোজাদারের ধৈর্য ও সম্মান
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৭৪৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৭৪৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِبِلَالٍ الْغَدَاءُ يَا بِلَالُ فَقَالَ إِنِّي صَائِمٌ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَأْكُلُ أَرْزَاقَنَا وَفَضْلُ رِزْقِ بِلَالٍ فِي الْجَنَّةِ أَشَعَرْتَ يَا بِلَالُ أَنَّ الصَّائِمَ تُسَبِّحُ عِظَامُهُ وَتَسْتَغْفِرُ لَهُ الْمَلَائِكَةُ مَا أُكِلَ عِنْدَهُ
বুরায়দাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিলাল (রাঃ)-কে বললেনঃ হে বিলাল! সকালের খাবার। বিলাল (রাঃ) বললেন, আমি সায়িম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমরা আমাদের রিজিক আহার করবো, আর বিলালের অংশ রয়েছে জান্নাতে। হে বিলাল! তুমি কি জানো যে, সায়িমের সামনে খাওয়া-দাওয়া করা হলে, তার হাড়সমূহ আল্লাহর গুণগান করে এবং ফেরেশতাগণ তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে!
তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট।[১৭৪৯] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী ৪/৬২। যঈফাহ ১৩৩২। তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাফফা আল-হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও অন্যত্রে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ ও তাদলীস করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১৩, ২৬/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা) ২. বাকিইয়্যাহ সম্পর্কে আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, যখন তিনি সিকাহ রাবী থেকে হাদিস বর্ণনা করেন তখন তাকে সিকাহ হিসেবে গন্য করা হবে। ইমাম নাসাঈ বলেন, যখন তিনি হাদ্দাসানা বা আখবারনা শব্দদয় দ্বারা হাদিস বর্ণনা করেন তখন তিনি সিকাহ হিসেবে গন্য হবেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৩৮, ৪/১৯২ নং পৃষ্ঠা) ৩. মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি মিথ্যুক তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আল-উকায়লী বলেন, তিনি অপরিচিত, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আল-আযদী তিনি মিথ্যুক তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইমাম যাহাবী তাকে উল্লেখ করে বলেন, তার মাঝে জাহালাত রয়েছে। তিনি সন্দেহভাজন নির্ভরযোগ্য নয়। তার সম্পর্কে আবুল ফাত্তাহ আদ্দী বলেন, তিনি মিথ্যুক তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৪১৬, ২৫/৬৫৭ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৭৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বিলাল (রাঃ)-কে সকালের খাবারের জন্য ডাকেন। বিলাল (রাঃ) জানান, তিনি সায়িম। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তারা নিজেদের রিজিক আহার করবেন, আর বিলালের অংশ জান্নাতে। এরপর তিনি রোজাদারের সামনে খাওয়া হলে তার হাড়সমূহ আল্লাহর গুণগান করে এবং ফেরেশতারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে—এ কথা বলেন। বর্ণনাটি রোজাদারের ধৈর্য ও মর্যাদার অনুভূতি জাগায়। এখানে বড় শিক্ষা হলো, রোজাদার খাবারের সামনে থেকেও আল্লাহর জন্য নিজেকে ধরে রাখে। সিয়াম শুধু ক্ষুধা নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্য, সংযম ও নীরব আত্মনিয়ন্ত্রণের আমল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোজাদার খাবারের সামনে থেকেও ধৈর্য ধরে।
- সিয়াম আল্লাহর জন্য আত্মসংযমের প্রকাশ।
- রোজাদারের জন্য ফেরেশতাদের ক্ষমা প্রার্থনার কথা এসেছে।
- রোজাদারের সম্মান ও মর্যাদা মনে রাখা উচিত।
