৭/৪৩. অধ্যায়ঃ
হারাম মাসসমূহের রোযা
সিয়ামে ভারসাম্য: নিজের দেহকে কষ্ট না দেওয়ার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৭৪১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৭৪১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي السَّلِيلِ عَنْ أَبِي مُجِيبَةَ الْبَاهِلِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَوْ عَنْ عَمِّهِ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللهِ أَنَا الرَّجُلُ الَّذِي أَتَيْتُكَ عَامَ الْأَوَّلِ قَالَ فَمَا لِي أَرَى جِسْمَكَ نَاحِلًا قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ مَا أَكَلْتُ طَعَامًا بِالنَّهَارِ مَا أَكَلْتُهُ إِلَّا بِاللَّيْلِ قَالَ مَنْ أَمَرَكَ أَنْ تُعَذِّبَ نَفْسَكَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي أَقْوَى قَالَ صُمْ شَهْرَ الصَّبْرِ وَيَوْمًا بَعْدَهُ قُلْتُ إِنِّي أَقْوَى قَالَ صُمْ شَهْرَ الصَّبْرِ وَيَوْمَيْنِ بَعْدَهُ قُلْتُ إِنِّي أَقْوَى قَالَ صُمْ شَهْرَ الصَّبْرِ وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ بَعْدَهُ وَصُمْ أَشْهُرَ الْحُرُمِ
ইসমু মুবহাম (বা নাম অপরিচিত) হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর নবী (ﷺ)! আমি সেই ব্যক্তি, গত বছরও আপনার নিকট এসেছিলাম। তিনি [রাসূলুল্লাহ (ﷺ)] বলেন, কী ব্যাপার, আমি তোমার শরীর দুর্বল দেখছি কেন?তিনি বলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ! আমি দিনে আহার করি না, রাতেই আহার করি। তিনি বলেন, নিজের দেহকে শাস্তি দিতে কে তোমাকে নির্দেশ দিয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অধিক শক্তিশালী।তিনি বলেন, তুমি ধৈর্যের মাসের সিয়াম রাখো এবং এরপর (প্রতি মাসে) এক দিন সিয়াম রাখো। আমি বললাম, আমি তো অধিক শক্তিশালী। তিনি বলেন, তুমি ধৈর্যের মাসের সিয়াম রাখো এবং প্রতি মাসে দুই দিন সিয়াম রাখো। আমি বললাম, আমি এর অধিক শক্তি রাখি।তিনি বলেন, তুমি ধৈর্যের মাসের সিয়াম রাখো, অতঃপর প্রতিমাসে তিন দিন এবং হারাম মাসসমূহে সিয়াম রাখো।
[১৭৪১] আবূ দাউদ ২৪২৮, যঈফ আবী দাউদ ৪১৯। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। এর সানাদ ভাল নয়। কেননা এর সানাদে ইদতিরাব হয়েছে। যা হাফিয ‘আত-তাহযীব’ গ্রন্থে এবং তার পূর্বে মানযিরী ‘মুখতাসার সুন্সান’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন, এর সানাদে এরূপ মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে যা আপনি প্রত্যক্ষ করলেন। আর এ জন্যই আমাদের কতিপয় শায়খ এটি দুর্বল হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এতে আরেকটি দোষ আছে তা হল জাহালাত।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৭৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে ভারসাম্যের শিক্ষা স্পষ্ট। একজন ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে জানান, তিনি দিনে আহার করেন না, শুধু রাতে আহার করেন। তাঁর শরীর দুর্বল হয়ে গেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে বলেন, নিজের দেহকে শাস্তি দিতে কে নির্দেশ দিয়েছে? এরপর তিনি ধাপে ধাপে তাকে রমজান বা ধৈর্যের মাসের সিয়াম এবং মাসে এক দিন, দুই দিন, তারপর তিন দিন ও হারাম মাসসমূহে সিয়ামের নির্দেশ দেন। এখানে মূল কথা হলো, ইবাদত করতে গিয়ে নিজের শরীরকে অযথা কষ্ট দেওয়া ঠিক নয়। সিয়াম ধৈর্যের ইবাদত, কিন্তু তা বুদ্ধি, সামর্থ্য ও ভারসাম্যের সঙ্গে পালন করা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইবাদতে আগ্রহ ভালো, তবে শরীরকে অযথা কষ্ট দেওয়া ঠিক নয়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) সিয়ামের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে সহজ পথ দেখিয়েছেন।
- সিয়াম ধৈর্যের ইবাদত, কিন্তু তা সামর্থ্য অনুযায়ী হওয়া উচিত।
- নিজের দেহের হক রক্ষা করাও দ্বীনের সুন্দর শিক্ষা।
