৭/২৬. অধ্যায়ঃ
রাত থাকতে ফরদ রোযার নিয়াত করা এবং নফল রোযার নিয়াতে বিলম্ব করা যায়।
ফরজ রোজার নিয়ত: রাতেই সিয়ামের সিদ্ধান্ত নেওয়ার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৭০০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৭০০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْقَطَوَانِيُّ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ حَازِمٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ حَفْصَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَا صِيَامَ لِمَنْ لَمْ يَفْرِضْهُ مِنْ اللَّيْلِ
হাফসাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি রাত থাকতে ফরজ রোযার নিয়ত করলো না তার সিয়াম হয়নি।
[১৭০০] তিরমিযী ৭৩০,নাসায়ী ২৩৩১, ২৩৩২, ২৩৩৩, ২৩৩৪, ২৩৩৫, ২৩৩৬, ২৩৩৭, ২৩৩৮, ২৩৩৯, ২৩৪০, ২৩৪১, আবূ দাউদ ২৪৫৪,মাজাহ ১৭০০, আহমাদ ২৫৯১৮, মুয়াত্তা মালেক ৬৩৭, দারেমী ১৬৯৮, ইরওয়াহ ৭১৪, সহীহ, আবী দাউদ ২১১৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. খালিদ বিন মাখলাদ আল-কাতওয়ানী সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আলী আল জুরজানী বলেন, ইনশাআল্লাহ্ আমার আমার নিকট তার ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য নয়। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শীয়া মতাবলম্বী। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শীয়া মতাবলম্বী। ইমাম যাহাবী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৬৫২, ৮/১৬৩ নং পৃষ্ঠা) ২. ইসহাক বিন হাযিম সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল আযদী বলেন, তিনি কাদিরিয়া মতাবলম্বী। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সিকাহ। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার কাদারিয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ আছে। ইমাম যাহাবী ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৮, ২/৪১৭ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৭০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফরজ রোজার নিয়ত সম্পর্কে খুব সরল কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাত থাকতে ফরজ রোযার নিয়ত করলো না, তার সিয়াম হয়নি। এখানে মূল বিষয় হলো ফরজ রোজা সচেতনভাবে আল্লাহর জন্য শুরু করা। শুধু খাবার-পানীয় থেকে বিরত থাকা নয়, বরং ইবাদতের উদ্দেশ্য মনে স্থির করাও জরুরি। তাই রমজানের ফরজ সিয়াম বা অন্য কোনো ফরজ রোজার ক্ষেত্রে রাতের মধ্যেই নিয়ত করার কথা বোঝানো হয়েছে। এই হাদিস মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে আমল শুধু বাহ্যিক কাজ নয়, তার ভেতরে আল্লাহর জন্য উদ্দেশ্য থাকা দরকার। রোজার নিয়ত, ফরজ সিয়াম এবং রাতের নিয়ত—এসব বিষয় এই হাদিসের কেন্দ্রীয় শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফরজ রোজার জন্য রাতেই নিয়ত করা দরকার।
- সিয়াম শুধু না খাওয়া নয়, আল্লাহর জন্য সচেতন ইবাদত।
- ইবাদতের আগে মনে উদ্দেশ্য ঠিক করা মুমিনের দায়িত্ব।
