৭/২১. অধ্যায়ঃ
রোযাদার ব্যক্তির গীবত ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়া ।
কত রোযাদার শুধু ক্ষুধা পায়: আমলের মানের সতর্কতা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৬৯০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৬৯০
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم رُبَّ صَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ صِيَامِهِ إِلَّا الْجُوعُ وَرُبَّ قَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ قِيَامِهِ إِلَّا السَّهَرُ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কত রোজাদার আছে যাদের রোজার বিনিময়ে ক্ষুধা ছাড়া আর কিছুই জোটে না। কত সালাত আদায়কারী আছে যাদের রাত জাগরণ ছাড়া আর কিছুই জোটে না।
[১৬৯০] আহমাদ ৮৬৩৯, ৯৩৯২, দারেমী ২৭২০, বায়হাকী ৪/২৭০, মিশসাত ২০১৪। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী উসামাহ বিন যায়দ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ উল্লেখ করে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আল আজলী তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে দলীল হিসেবে নয়। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩১৭, ২/৩৪৭ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৬৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কত রোজাদার আছে যাদের রোজার বিনিময়ে ক্ষুধা ছাড়া আর কিছুই জোটে না। আবার কত সালাত আদায়কারী আছে, যাদের রাত জাগরণ ছাড়া আর কিছুই জোটে না। এটি খুব গভীর সতর্কতা। রোযা ও রাতের নামাজ বাহ্যিক কষ্টের নাম নয়; এগুলোর সঙ্গে সঠিক আচরণ, আন্তরিকতা এবং আল্লাহর সামনে বিনয় থাকা দরকার। হাদিসটি কাউকে হতাশ করার জন্য নয়, বরং নিজের আমলকে ঠিক করার জন্য। রোযা রেখে যদি মানুষ খারাপ কথা, খারাপ কাজ ও অমনোযোগী আচরণে থাকে, তাহলে সে নিজের ইবাদতের মান কমিয়ে ফেলতে পারে। তাই রোযা ও কিয়াম—দুটিই যত্ন নিয়ে করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইবাদতের বাহ্যিক কষ্টই সব নয়; আমলের মানও গুরুত্বপূর্ণ।
- রোযা রাখার সঙ্গে চরিত্র ঠিক রাখা দরকার।
- রাতের নামাজও মনোযোগ ও আন্তরিকতা চায়।
- এই হাদিস নিজের আমল পরীক্ষা করার শিক্ষা দেয়।
