৭/১২. অধ্যায়ঃ
গর্ভবতী নারী ও দুগ্ধপোষ্য শিশুর মায়ের সিয়াম না রাখার সুযোগ।
মুসাফির, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারিণীর রোজার অবকাশ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৬৬৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৬৬৭
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ أَبِي هِلَالٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَوَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَبْدِ الْأَشْهَلِ وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ مِنْ بَنِي عَبْدِ اللهِ بْنِ كَعْبٍ قَالَ أَغَارَتْ عَلَيْنَا خَيْلُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَتَغَدَّى فَقَالَ ادْنُ فَكُلْ قُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ قَالَ اجْلِسْ أُحَدِّثْكَ عَنْ الصَّوْمِ أَوْ الصِّيَامِ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَضَعَ عَنْ الْمُسَافِرِ شَطْرَ الصَّلَاةِ وَعَنْ الْمُسَافِرِ وَالْحَامِلِ وَالْمُرْضِعِ الصَّوْمَ أَوْ الصِّيَامَ وَاللهِ لَقَدْ قَالَهُمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كِلْتَاهُمَا أَوْ إِحْدَاهُمَا فَيَا لَهْفَ نَفْسِي فَهَلَّا كُنْتُ طَعِمْتُ مِنْ طَعَامِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم.
আনাস বিন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বানু আবদুল আশহাল গোত্রের এক ব্যক্তি- আলী ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেন, বানু আবদুল্লাহ ইবনু কা’ব গোত্রের এক ব্যক্তি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অশ্বারোহী বাহিনী আমাদের উপর হামলা করলো। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখলাম যে, তিনি সকালের নাস্তা করছেন। তিনি বলেন, “কাছে এসো এবং আহার করো।” আমি বললাম, “আমি রোযাদার।” তিনি বলেন, “বসো, আমি তোমার সাথে সিয়াম সম্পর্কে আলোচনা করবো। মহান আল্লাহ মুসাফির থেকে অর্ধেক সালাত হ্রাস করেছেন এবং মুসাফির, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারিণীকে সিয়াম রাখার ব্যাপারে অবকাশ দিয়েছেন। আল্লাহর শপথ! নবী (ﷺ) আমাদের দু’টি অথবা একটির কথা বলেছেন। আমার নিজের জন্য দুঃখ হয়, আমি কেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে আহার করলাম না!”
[১৬৬৭] তিরমিযী ৭১৫, নাসায়ী ২২৭৪, ২২৭৬, ২৩১৫, আবূ দাউদ ২৪০৮, আহমাদ ১৮৫৬৮, ১৯৮১৪, মিশকাত ২০২৫, সহীহ আবী দাউদ ২০৮৩। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু হিলাল সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ইদতিরাব করেন। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। বাযযার বলেন, তিনি গায়র হাফিয। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫২৫৬, ২৫/২৯২ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৬৬৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে দেখলেন, তিনি খাবার খাচ্ছেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে কাছে এসে আহার করতে বলেন। সে জানায়, সে রোযাদার। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে বসতে বলেন এবং সিয়াম সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ মুসাফির থেকে অর্ধেক সালাত হ্রাস করেছেন এবং মুসাফির, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারিণীকে সিয়াম রাখার ব্যাপারে অবকাশ দিয়েছেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, আল্লাহ বান্দার অবস্থার দিকে সহজতা রেখেছেন। সফর, গর্ভাবস্থা এবং সন্তানকে দুধ পান করানোর অবস্থাকে সাধারণ অবস্থার মতো ধরা হয়নি। হাদিসে বর্ণনাকারীর আফসোসও এসেছে যে, তিনি কেন নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে আহার করলেন না। এতে আল্লাহর দেওয়া ছাড় গ্রহণের মূল্য বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুসাফিরের জন্য সালাতে হ্রাসের কথা হাদিসে এসেছে।
- মুসাফিরকে সিয়াম রাখার বিষয়ে অবকাশ দেওয়া হয়েছে।
- গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারিণীর জন্যও সিয়ামে অবকাশের কথা এসেছে।
- আল্লাহর দেওয়া সহজতাকে গুরুত্ব দেওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায়।
