৭/১১. অধ্যায়ঃ
সফররত অবস্থায় সিয়াম না রাখা।
মুসাফিরের রোজা নিয়ে সহজ ভাষায় হাদিসের ব্যাখ্যা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৬৬৫
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৬৬৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَيْسَ مِنْ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: সফরে সিয়াম রাখা সওয়াবের কাজ নয়।
[১৬৬৫] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়াহ ৪/৫৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন মুসাফফা আল-হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ ও তাদলীস করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১৩, ২৬/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৬৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসেও রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর একই বক্তব্য এসেছে: সফরে সিয়াম রাখা সওয়াবের কাজ নয়। বিষয়টি মুসাফিরের রোজা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা দেয়। সফর মানুষের স্বাভাবিক অবস্থার মতো নয়। সফরে কষ্ট, চলাফেরা, অনিশ্চয়তা ও শারীরিক চাপ থাকতে পারে। তবে এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আমাদের শুধু দেওয়া কথার মধ্যেই থাকতে হবে। এখানে নবী (صلى الله عليه وسلم) সফরে রোজা রাখাকে সওয়াবের কাজ হিসেবে বলেননি। তাই মুসাফিরের জন্য সহজতা, ছাড় এবং আল্লাহর দেওয়া অবকাশের মূল্য বোঝা যায়। একই সঙ্গে এটি শেখায়, ইবাদতে নিজের পছন্দের কঠোরতার চেয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে রোজা বিষয়ে নবী صلى الله عليه وسلم সহজতার দিক বলেছেন।
- হাদিসে সফরে সিয়াম রাখাকে সওয়াবের কাজ বলা হয়নি।
- মুসাফিরের অবস্থাকে স্বাভাবিক অবস্থার মতো না ভাবার শিক্ষা আছে।
- ইবাদতে নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশনাকে প্রাধান্য দিতে হয়।
