৭/১০. অধ্যায়ঃ
সফররত অবস্থায় সিয়াম রাখা।
প্রচণ্ড গরমে সফরের রোজা সম্পর্কে হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৬৬৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৬৬৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ ح و حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْحَمَّالُ قَالَا حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ جَمِيعًا عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَيَّانَ الدِّمَشْقِيِّ حَدَّثَتْنِي أُمُّ الدَّرْدَاءِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ أَنَّهُ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ فِي الْيَوْمِ الْحَارِّ الشَّدِيدِ الْحَرِّ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَضَعُ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ مِنْ شِدَّةِ الْحَرِّ وَمَا فِي الْقَوْمِ أَحَدٌ صَائِمٌ إِلَّا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَعَبْدُ اللهِ بْنُ رَوَاحَةَ
আবূ দারদা’ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা প্রচণ্ড গরমের মৌসুমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে এক সফরে প্রচণ্ড খরতাপের শিকার হলাম। গরমের তীব্রতার কারণে লোকেরা তাদের হাত মাথার উপর রাখছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রাঃ) ব্যতীত দলের মধ্যে আর কেউ রোযাদার ছিল না।
[১৬৬৩] সহীহুল বুখারী ১৯৪৫, মুসলিম ১১২২, আবূ দাউদ ২৪০৯, আহমাদ ২১১৮৯ সহীহাহ ১৯১, সহীহ আবী দাউদ ২০৮৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী হিশাম বিন সা'দ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার মুখস্তশক্তি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস গ্রহন করা যায় কিন্তু দলীলযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। তার শীয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৫৭৭, ৩০/২০৪ নং পৃষ্ঠা) ২. উসমান বিন হায়্যান আদ-দিমাশকী সম্পর্কে ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি আল-ওয়ালীদ বিন আবদুল মালিক এর কর্মচারী। ইবনু হিব্বান তার সিকাহ গ্রন্থে তার নাম উল্লেখ করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮০৬, ১৯/৩৬০ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৬৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি সফরের ঘটনা বলা হয়েছে। সাহাবিরা রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে সফরে ছিলেন। দিনটি ছিল প্রচণ্ড গরমের। গরম এত বেশি ছিল যে, লোকেরা তাপের কারণে হাত মাথার উপর রাখছিল। এই অবস্থায় বর্ণনাকারী বলেন, দলের মধ্যে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এবং আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রাঃ) ছাড়া আর কেউ রোজাদার ছিল না। এখানে সফরে রোজা রাখার একটি বাস্তব ছবি পাওয়া যায়। হাদিসটি দেখায়, কঠিন গরমের সফরে সবাই রোজা রাখেনি, আবার নবী (صلى الله عليه وسلم) ও একজন সাহাবি রোজাদার ছিলেন। তাই সফরে রোজা নিয়ে শুধু এক দিক নয়, বাস্তব অবস্থার ভিন্নতাও দেখা যায়। তবে হাদিসে কাউকে দোষ দেওয়া বা আলাদা কোনো সাধারণ নিয়ম ঘোষণা করা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবিরা সফরে কঠিন গরমের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
- সে সফরে অধিকাংশ লোক রোজাদার ছিলেন না।
- নবী صلى الله عليه وسلم এবং আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা রোজাদার ছিলেন।
- হাদিসটি সফরের বাস্তব কষ্ট ও আমলের ভিন্নতা তুলে ধরে।
