৭/১. অধ্যায়ঃ
সিয়াম বা রোযার ফযিলত।
রোজার ফজিলত: আল্লাহর জন্য ত্যাগ ও রোজাদারের দুই আনন্দ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৬৩৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৬৩৮
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ وَوَكِيعٌ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ مَا شَاءَ اللهُ يَقُولُ اللهُ إِلَّا الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহর মর্জি হলে আদম সন্তানের প্রতিটি সৎকাজের প্রতিদান দশ গুণ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। আল্লাহ বলেন, তবে সিয়াম ব্যতীত, তা আমার জন্যই (রাখা হয়) এবং আমিই তার প্রতিদান দিব। সে তার প্রবৃত্তি ও পানাহার আমার জন্যই ত্যাগ করে। রোজাদারের জন্য দু’টি আনন্দ: একটি আনন্দ তার ইফতারের সময় এবং আরেকটি আনন্দ রয়েছে তার প্রভু আল্লাহর সাথে তার সাক্ষাতের সময়। রোজাদার ব্যক্তির মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্তুরীর ঘ্রাণের চেয়েও অধিক সুগন্ধময়।
[১৬৩৮] সহীহুল বুখারী ১৮৯৪, ১৯০৪, মুসলিম ১১৫১, তিরমিযী ৭৬৪, নাসায়ী ২২১৪, ৬৬১৬, ২২১৭, ২২১৮, ২২১৯, ৭১৩৪, ৭১৫৪, ৭৫৫২, ৭৬৩৬, ৭৭৩০, ৮৮৬৮, ৮৮৯৩, ৯০২২, ৯০৬৭, ৯০৯৯, ৯৪২১, ২৭২৫৫, ২৭২৭১, ৯৮১৯, ৯৯১৮, ১০১২৭, ১০১৭৬, ১০৩১৩, মুয়াত্তা মালেক ৬৯০, দারেমী ১৭৬৯, ১৭৭০ সহীহ্ তারগীব, ৯৬৮, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৬৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) রোজার বিশেষ মর্যাদা বর্ণনা করেছেন। আদম সন্তানের সৎকাজের প্রতিদান আল্লাহর ইচ্ছায় দশ গুণ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে রোজা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, তা তাঁর জন্য, আর তিনিই এর প্রতিদান দেবেন। কারণ রোজাদার আল্লাহর জন্য নিজের প্রবৃত্তি, পানাহার ত্যাগ করে। হাদিসে রোজাদারের দুই আনন্দের কথা এসেছে—ইফতারের সময় আনন্দ, আর আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় আনন্দ। আরও বলা হয়েছে, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে কস্তুরীর ঘ্রাণের চেয়েও সুগন্ধময়। এই হাদিসে রোজার ফজিলত, নিয়তভিত্তিক ত্যাগ এবং আল্লাহর কাছে রোজাদারের মর্যাদা সহজভাবে বোঝা যায়। এতে অতিরিক্ত কোনো দুনিয়াবি প্রতিশ্রুতি নেই; মূল কথা হলো আল্লাহর জন্য সংযম।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোজা আল্লাহর জন্য রাখা বিশেষ ইবাদত হিসেবে এসেছে।
- রোজাদার নিজের প্রবৃত্তি ও পানাহার আল্লাহর জন্য ত্যাগ করে।
- ইফতার ও আল্লাহর সাক্ষাতের সময় রোজাদারের আনন্দের কথা বলা হয়েছে।
