৬/৫৩. অধ্যায়ঃ
মৃতের জন্য কান্নাকাটি করা
শোকগাথা ও বিলাপ নিষেধ: মৃতের জন্য কান্নার আদব
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৫৯২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৫৯২
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الْهَجَرِيِّ عَنْ ابْنِ أَبِي أَوْفَى قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَنْ الْمَرَاثِي
ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (মৃতের জন্য) বিলাপ করতে বা শোকগাঁথা গাইতে নিষেধ করেছেন।
[১৫৯০] যঈফাহ ৪৭২৪। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ইবরাহীম আল হাজারী সম্পর্কে আল আযদী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় অধিক সন্দেহ করেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন, আবু যুরআহ আর-রাযী ও মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৫৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মৃতের জন্য বিলাপ করতে বা শোকগাথা গাইতে নিষেধ করেছেন। শোকগাথা সাধারণত মৃতকে ঘিরে উচ্চস্বরে দুঃখ, গুণকীর্তন বা মাতমের রূপ নিতে পারে। বর্ণনায় মূল নিষেধ এসেছে এই ধরনের বিলাপী প্রকাশের ব্যাপারে। তাই মৃত্যুর পর মানুষের কাজ হলো মৃতের জন্য দোয়া করা, নিজেকে সামলানো এবং এমন কথা না বলা, যা শোককে আরও উসকে দেয়। এই হাদিস শোকের ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। কষ্টকে গান, বিলাপ বা শোকগাথার আয়োজন বানানো ইসলামের শেখানো শান্ত জানাযার আদবের সঙ্গে যায় না। তাই “শোকগাথা হাদিস” খুঁজলে মূল শিক্ষা হলো—মৃতের জন্য মাতম নয়, বরং সংযম, দোয়া ও ধৈর্য।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মৃতের জন্য বিলাপ বা শোকগাথা গাইতে নিষেধ এসেছে।
- শোকের ভাষা যেন মাতমে পরিণত না হয়।
- মৃতের জন্য দোয়া ও ধৈর্যই নিরাপদ পথ।
