৬/৪৭. অধ্যায়ঃ
কবর যিয়ারত করা।
কবর জিয়ারত: দুনিয়া বিমুখতা ও আখিরাত স্মরণের হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৫৭১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৫৭১
حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ هَانِئٍ عَنْ مَسْرُوقِ بْنِ الْأَجْدَعِ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا فَإِنَّهَا تُزَهِّدُ فِي الدُّنْيَا وَتُذَكِّرُ الْآخِرَةَ
ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা কবর যিয়ারত করো। কেননা তা দুনিয়া বিমুখ বানায় এবং আখিরাত স্মরণ করিয়ে দেয়।
[১৫৭০] আহমাদ ৪৩০৭ মিশকাত ১৭৬৯, আহকামুল জানায়ীয। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আয়্যুব বিন হানী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু আদী বলেন, আমি তাকে চিনি না।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৫৭১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনি আগে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলেন। এরপর তিনি বলেন, এখন তোমরা কবর জিয়ারত করো। কারণ তা দুনিয়া বিমুখ বানায় এবং আখিরাত স্মরণ করিয়ে দেয়। কবর জিয়ারত করার ফজিলত নিয়ে এই বর্ণনা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে অনুমতির সঙ্গে উদ্দেশ্যও বলা হয়েছে। কবর দেখা মানুষকে দুনিয়ার অস্থায়ী জীবন নিয়ে ভাবতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে আখিরাতের কথা মনে করায়। তবে এখানে দুনিয়া ছেড়ে দেওয়া বা জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার কথা নেই; বরং দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কমানোর কথা বোঝা যায়। এই হাদিস আমাদের শেখায়, কবর জিয়ারত যেন শুধু আনুষ্ঠানিক সফর না হয়; বরং তা হৃদয়ে আখিরাতের স্মরণ জাগায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আগের নিষেধের পর কবর জিয়ারতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- কবর জিয়ারত দুনিয়ার অতিরিক্ত আসক্তি কমাতে স্মরণ করায়।
- কবর জিয়ারত আখিরাতের কথা মনে করানোর কারণ।
- ইবাদতের মতো কাজের উদ্দেশ্যও বুঝে নেওয়া দরকার।
