৬/৪০. অধ্যায়ঃ
শাক্ক কবর ।
নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আদব ও লাহদ কবরের ঘটনা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৫৫৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৫৫৮
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ بْنِ عُبَيْدَةَ بْنِ زَيْدٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ طُفَيْلٍ الْمُقْرِئُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ الْقُرَشِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَمَّا مَاتَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اخْتَلَفُوا فِي اللَّحْدِ وَالشَّقِّ حَتَّى تَكَلَّمُوا فِي ذَلِكَ وَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمْ فَقَالَ عُمَرُ لَا تَصْخَبُوا عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَيًّا وَلَا مَيِّتًا أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا فَأَرْسَلُوا إِلَى الشَّقَّاقِ وَاللَّاحِدِ جَمِيعًا فَجَاءَ اللَّاحِدُ فَلَحَدَ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ دُفِنَ صلى الله عليه وسلم
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ইন্তিকাল করেন, তখন সাহাবীগণ তাঁকে লাহদ অথবা শক কবরের দাফন করার ব্যাপারে মতভেদ করেন, এমনকি তারা এ নিয়ে বাদানুবাদে লিপ্ত হন এবং তাঁদের কণ্ঠস্বর উঁচু হয়ে যায়। উমর (রাঃ) বলেন, তোমরা জীবিত ও মৃত, কোন অবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উচ্চ কণ্ঠে বিতণ্ডা করো না অথবা অনুরূপ কিছু বলেছেন। তোমরা শক ও লাহদ খননকারী সকলের নিকট খবর পাঠাও। অতএব লাহদ কবর খননকারী (আগে) আসলো এবং সে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য লাহদ কবর খনন করলো, অতঃপর তাঁকে দাফন করা হলো।
[১৫৫৭] মিশকাত দ্বিতীয় তাহকীক ১৭০০। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী উবায়দ বিন তুফায়ল আল-মুকরী সম্পর্কে হাদিস বিশারদগণ বলেন, তিনি অপরিচিত। ২. আব্দুর রহমান বিন আবু মুলায়কাহ আল কুরাশী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল ও ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইবনু খিরাশ তাকে দুর্বল বলেছেন। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তার একাধিক দুর্বল হাদিস রয়েছে।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৫৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ইন্তেকালের পর দাফনের বিষয়ে সাহাবিদের মধ্যে মতভেদের কথা এসেছে। তাঁরা লাহদ না শক কবর হবে—এ নিয়ে কথা বলেন, এমনকি কণ্ঠস্বর উঁচু হয়ে যায়। তখন উমর (রাঃ) বলেন, তোমরা জীবিত বা মৃত—কোন অবস্থায়ই রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে উচ্চ কণ্ঠে বিতণ্ডা করো না। এরপর শক ও লাহদ খননকারী সবাইকে খবর পাঠানো হয়। লাহদ খননকারী এসে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর জন্য লাহদ কবর খনন করে এবং তাঁকে দাফন করা হয়। এখানে বড় শিক্ষা হলো, মতভেদ হলেও আদব হারানো যাবে না। বিশেষ করে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সম্মানের ক্ষেত্রে শান্ত থাকা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মতভেদ হলেও উচ্চ কণ্ঠে বিতণ্ডা করা ঠিক নয়।
- রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সম্মান জীবিত ও মৃত—উভয় অবস্থায় বজায় রাখা হয়েছে।
- শেষ পর্যন্ত নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর জন্য লাহদ কবর খনন করা হয়।
