৫/১৭৪. অধ্যায়ঃ
রাতে ইবাদাতে দণ্ডায়মান হওয়া (কিয়ামুল লাইল)
রাতভর ঘুমিয়ে থাকা ও রাতের ইবাদত ছেড়ে দেওয়ার সতর্কতা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৩৩০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৩৩০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ ذُكِرَ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَجُلٌ نَامَ لَيْلَةً حَتَّى أَصْبَحَ قَالَ " ذَلِكَ الشَّيْطَانُ بَالَ فِي أُذُنَيْهِ " .
আবদুল্লাহ (বিন মাসউদ বিন গাফিল বিন হাবীব) (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এক ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা হল যে, সে এক ঘুমে রাত কাটিয়ে ভোরে উপনীত হয়। তিনি বলেন, এ ব্যক্তির দুই কানে শয়তান পেশাব করে দিয়েছে।
[১৩৩০] বুখারী ১১৪৪, ৩২৭০; মুসলিম ৭৭৪, নাসায়ী ১৬০৮-৯, আহমাদ ৩৫৪৭, ৪০৪৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ তারগীব ৬৪০।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৩৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এমন এক ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যে এক ঘুমে রাত কাটিয়ে ভোরে ওঠে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে তার কথা আলোচনা করা হলে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির দুই কানে শয়তান পেশাব করেছে। হাদিসের ভাষা কঠোর, তাই এর শিক্ষা হলো রাতের ইবাদতকে পুরোপুরি অবহেলা করা ভালো নয়। এখানে বিশেষ করে রাতের সালাত বা কিয়ামুল লাইলের প্রতি উৎসাহ এবং অলসতার প্রতি সতর্কতা দেখা যায়। তবে এই বর্ণনা থেকে কারো ব্যক্তিগত অবস্থার ওপর সরাসরি রায় দেওয়া ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, রাতকে শুধু ঘুমের সময় বানিয়ে না ফেলে, আল্লাহর স্মরণ ও সালাতের জন্য কিছু সময় রাখা। হাদিসটি রাতের ঘুম, তাহাজ্জুদ ও ইবাদতের আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতভর একটানা ঘুমিয়ে ইবাদত ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সতর্কতা এসেছে।
- রাতের সালাতের প্রতি আগ্রহী হওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায়।
- অলসতা থেকে বাঁচতে আল্লাহর স্মরণে জাগার চেষ্টা করা দরকার।
- হাদিসের কঠোর ভাষা ইবাদত অবহেলার ক্ষতি বোঝায়।
