৫/১৭৩. অধ্যায়ঃ
রমাযান মাসের কিয়ামুল লাইল (তারাবীহ সালাত)
ইমামের সাথে তারাবীহ শেষ পর্যন্ত পড়ার ফজিলত
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৩২৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৩২৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا مَسْلَمَةُ بْنُ عَلْقَمَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُرَشِيِّ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ صُمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَمَضَانَ فَلَمْ يَقُمْ بِنَا شَيْئًا مِنْهُ حَتَّى بَقِيَ سَبْعُ لَيَالٍ فَقَامَ بِنَا لَيْلَةَ السَّابِعَةِ حَتَّى مَضَى نَحْوٌ مِنْ ثُلُثِ اللَّيْلِ ثُمَّ كَانَتِ اللَّيْلَةُ السَّادِسَةُ الَّتِي تَلِيهَا فَلَمْ يَقُمْهَا حَتَّى كَانَتِ الْخَامِسَةُ الَّتِي تَلِيهَا ثُمَّ قَامَ بِنَا حَتَّى مَضَى نَحْوٌ مِنْ شَطْرِ اللَّيْلِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ نَفَّلْتَنَا بَقِيَّةَ لَيْلَتِنَا هَذِهِ . فَقَالَ " إِنَّهُ مَنْ قَامَ مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ فَإِنَّهُ يَعْدِلُ قِيَامَ لَيْلَةٍ " . ثُمَّ كَانَتِ الرَّابِعَةُ الَّتِي تَلِيهَا فَلَمْ يَقُمْهَا حَتَّى كَانَتِ الثَّالِثَةُ الَّتِي تَلِيهَا . قَالَ فَجَمَعَ نِسَاءَهُ وَأَهْلَهُ وَاجْتَمَعَ النَّاسُ . قَالَ فَقَامَ بِنَا حَتَّى خَشِينَا أَنْ يَفُوتَنَا الْفَلاَحُ . قِيلَ وَمَا الْفَلاَحُ قَالَ السُّحُورُ . قَالَ ثُمَّ لَمْ يَقُمْ بِنَا شَيْئًا مِنْ بَقِيَّةِ الشَّهْرِ .
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে রমজানে সাওম রাখলাম। তিনি আমাদের নিয়ে এ মাসে (নফল সালাতে) দাঁড়াননি, এমনকি রমজানের মাত্র সাতটি রাত বাকী রইল। সপ্তম রাতে তিনি আমাদের নিয়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রাত সালাত পড়লেন।এরপর ষষ্ঠ রাতে তিনি (নফল) সালাত পড়েননি। অতঃপর পঞ্চম রাতে তিনি আমাদের নিয়ে প্রায় অর্ধরাত পর্যন্ত সালাত পড়লেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এই রাতের অবশিষ্ট অংশও যদি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাত পড়ে ফিরে আসে সে সারারাত সালাত পড়ার সমান নেকী পায়।অতঃপর তিনি চতুর্থ রাতে সালাত পড়েননি। তৃতীয় রাত এলে তিনি তাঁর স্ত্রীদের, পরিজনদের একত্র করেন এবং লোকেরাও একত্র হয়। রাবী বলেন, তিনি আমাদের নিয়ে এত দীর্ঘক্ষণ সালাত পড়লেন যে, আমরা কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করলাম। আবূ যার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কল্যাণ কী? তিনি বলেন, সাহরি। অতঃপর তিনি আমাদের নিয়ে মাসের অবশিষ্ট রাতগুলোতে আর কোন নফল সালাত পড়েননি।
[১৩২৭] তিরমিযী ৮০৬, নাসায়ী ১৩৬৪, আবূ দাঊদ ১৩৭৫, আহমাদ ২০৯১০, ২০৯৩৬; দারিমী ১৭৭৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৪৪৭, মিশকাত ১২৯৮, সহীহ আবী দাউদ ১২৪৫।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৩২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে রমজানের রাতের সালাতের একটি সুন্দর ছবি পাওয়া যায়। আবূ যার (রাঃ) বলেন, তারা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সাথে রমজানে সাওম রাখেন। মাসের শেষ দিকে কিছু রাতে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের নিয়ে নফল সালাতে দাঁড়ান। এক রাতে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রাত, আরেক রাতে প্রায় অর্ধরাত সালাত পড়েন। আবূ যার (রাঃ) যখন রাতের বাকি অংশও সালাত পড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলেন, তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, যে ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাত পড়ে ইমাম ফিরে যাওয়া পর্যন্ত থাকে, সে সারারাত সালাত পড়ার সমান নেকী পায়। এই হাদিসে তারাবীহ বা রমজানের কিয়ামুল লাইল, জামাআত, ইমামের সাথে থাকা এবং সাহরির সময়ের প্রতি খেয়াল রাখার শিক্ষা একসাথে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানে জামাআতে রাতের সালাত আদায়ের বর্ণনা এসেছে।
- ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত থাকা বিশেষ নেকীর কারণ বলা হয়েছে।
- রাতের ইবাদত দীর্ঘ হতে পারে, তবে সাহরির সময়ও খেয়াল রাখা হয়েছে।
- পরিবার ও লোকদের নিয়ে ইবাদতে দাঁড়ানোর দৃশ্য এসেছে।
